Agaminews
Dr. Neem Hakim

রামগতি কমলনগরে নদী ভাঙ্গন রোধে শুকনো মৌসুমে নেই কোন ব্যবস্থা


mugdho khandokar প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১২, ২০২১, ৯:১৩ অপরাহ্ন /
রামগতি কমলনগরে  নদী ভাঙ্গন রোধে শুকনো মৌসুমে নেই কোন ব্যবস্থা

আতাউর রহমান রাব্বিঃ
রামগতি কমলনগরে যে নদী ভাঙ্গন সমস্যা তা সকলের চোখে দৃশ্যমান হয় বর্ষা মৌসুমে, কিন্তু কেন এই সমস্যা তো সকল মৌসুমে দৃশ্যমান হওয়ার কথা। আপনারা সকলে তো মাতৃভূমি প্রিয় তা হলে কেন আপনারা নদী ভাঙ্গন সমস্যা নিয়ে সকল মৌসুমে লেখালেখি কিংবা কথা বলছেন না। এখন তো হলো শুকনো মৌসুম এটাই হলো নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সঠিক সময়। কিন্তু দুঃখের সহিত বলতে হয় বর্ষা মৌসুমে যখন নদী ভাঙ্গে তখন প্রতিশ্রুতি আসে শুকনো মৌসুমে নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
তবে কথাটি যুক্তিসঙ্গত না, এখন আপনারা বলতে পারেন কেন যুক্তিসঙ্গত না হ্যাঁ বলছি এভাবে এসেছে কত প্রতিশ্রুতি কিন্তু কাজতো হচ্ছে না। এখন নদী ভাঙ্গন রোধে যতাযত সময় থাকর পরও নেই কতৃপক্ষের কোন ভাবনা। হয়তো এভাবে কেটে যাবে শুকনো মৌসুম, হয়তো আবার আপন গতিতে ভাঙ্গবে নদী বর্ষা মৌসুমে তখন আসবে নানা প্রতিশ্রুতি বলছি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে। এভাবে হলে তো আর দেশের মানচিত্রে থাকবে না প্রিয় মাতৃভূমি। এই দুই উপজেলায় নদী ভাঙ্গনের সমস্যা দীর্ঘ তিন যুগ ধরে নদী ভাঙ্গন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে রামগতি কমলনগরের মেঘনা পাড়ের মানুষ। একে তো হলো করোনা আরো হলো নদী ভাঙ্গনের যন্ত্রণা সবমিলিয়ে দুঃখ কষ্টে জীবনযাপন করছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। রামগতি কমলনগরে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার আসলেই প্লাবিত হয়ে যায় রামগতি কমলনগরের বিস্তীর্ণ জনপদ। গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, সামান্য জোয়ার আসলেই পানি ডুকে পড়তো লোকালয়ে। হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি রামগতি কমলনগরে। আসলে নদী পাড়ে আসলে বুঝা যায় ভাঙ্গন কবলিত মানুষের আহাজারি। বর্ষা আসলেই মেঘনা হয়ে যায় ভয়ঙ্কর ভাঙ্গনের গতি হয়ে যায় আরো তিব্র। রামগতি কমলনগরে মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, হাটবাজার, পোল কালভার্ট, রাস্তাঘাট সহ অসংখ্য সরকারি বেসরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখন শুকনো মৌসুমে নদী পাড়ের মানুষজন আছে অনেকে ব্যাস্ত সাজানো গুছানো ঘর গুলা সরানোর কাজে। তা দেখেই যেন নিজের অজান্তেই চোখে জল চলে আসবে। হঠাৎ নদী পাড়ে গিয়ে দেখা হয় এক পরিচিত জনের সঙ্গে ওনি নদী পাড়ের বাসিন্দা। তাকে দেখে হঠাৎ আমার হৃদয়ে চলে আসে কান্নার আওয়াজ। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি দুঃখ কষ্টের সাথে বলেন তার করুন হৃদয়বিদায়ক গল্পের কথা। তার কথার মাঝে যেনো ভেসে আসে কান্নার সুর, জলমলে চোখের পানি গড়াচ্ছে, কোমল কন্ঠে বলছে সেই আরো দুই দুবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এখোনো রয়েছে তার বাড়ি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে এই নিয়ে হবে তিনবার। এই নদী ভাঙ্গনের ফলে তিনি এখন সর্বশান্ত। এভাবে হয়তো প্রতিনিহত নদী ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হচ্ছে বহু পরিবার। নেই কোন তাদের ঠিকানা এই ছিল কি তাদের নিয়তির পরিণতি? আমাদের দেশে বড় বড় প্রকল্প হচ্ছে হাজার হাজার কুটি টাকার এখন মাত্র ৩ হাজার কুটি টাকা হলে নিরাপদ রামগতি কমলনগর। বিভিন্ন সময় আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখি হাজার কুটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে প্রর্যটন কেন্দ্র। নেই যেখানে বেঁচে থাকার ঠিকানা, সেখানে প্রর্যটন কেন্দ্র করে কি হবে? তাই বলছি আমাদের দেশে বহু প্রকল্প হচ্ছে, হয়তো আমাদের রামগতি কমলনগরের নদী ভাঙ্গন রোধের প্রকল্প অনেক অর্থবহ। এই প্রকল্পটি হলে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে সংসদীয় আসন লক্ষ্মীপুর ৪ রামগতি কমলনগর। নদী ভাঙ্গন রোধে এখন যথাযত ব্যবস্থা গ্রহনের সঠিক সময়, যদি এই শুকনো মৌসুমে নদী ভাঙ্গন রোধে সরকার স্থায়ী কোন পদক্ষেপ না নেন। তবে দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে রামগতি কমলনগর। তাই স্থানীয়দের দাবি যত দ্রুত সম্ভব নদী ভাঙ্গন রোধে যেন তৈরি করা হয় স্থায়ী বেড়িবাঁধ।