Agaminews
Dr. Neem Hakim

মাস্টার দা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা বিনোদন বিহারী চৌধুরীর জন্মদিন


mugdho khandokar প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১১, ২০২১, ২:০৩ অপরাহ্ন /
মাস্টার দা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা বিনোদন বিহারী চৌধুরীর জন্মদিন

স্বীকৃতি বিশ্বাস নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

অবিভক্ত ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী অান্দোলনের সূতিকাগার বলা হয় চট্টগ্রামকে।চট্টগ্রামেই জন্মগ্রহন করেন ব্রিটিশ বিরোধী অান্দোলনের প্রাণ পুরুষ মাস্টারদা সূর্য সেন,প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অসংখ্য মহীয়সী প্রাণ।তাদেরই একজন বিনোদ বিহারি চৌধুরী।

বিনোদ বিহারি চৌধুরী ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কামিনী কুমার চৌধুরী ছিলেন পেশায় উকিল এবং মা রামা চৌধুরী ছিলেন গৃহিণী। তার স্ত্রীর নাম বিভা চৌধুরী। ছেলের নাম বিবেকান্দ চৌধুরী। বিনোদন বিহারী চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার রাঙ্গামাটিয়া বোর্ড স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল।সেখান থেকে তিনি ফটিকছড়ির প্রাচীন ও ঐতিহ্যেবাহী শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ফটিকছড়ি করোনেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,বোয়ালখালির পি.সি. সেন সারোয়ারতলি উচ্চ বিদ্যালয়,চট্টগ্রাম কলেজ পড়াশোনা করেন। ১৯২৯ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃত্বিতের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৩৪ ও ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ রাজের রাজপুতনার ডিউলি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় থাকার সময় প্রথম শ্রেণীতে আই.এ. ও বিএ পাশ করেন।

বিনোদন বিহারী চৌধুরী ১৯৩০ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।এছাড়া ১৯৪০- ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নির্বাহী কমিটির সদস্য থাকার পাশাপাশি ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তান কংগ্রেসের সদস্য হন।১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সব দলকে বেআইনি ঘোষণা করলে রাজনীতি থেকে অবসর নেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৩৯ সালে দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবে কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসাবে অনুশীলন শুরু করেন। কিন্তু অবশেষে তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসাবে গ্রহন করেন। বিপ্লবীদের কাতারে নাম লেখানোর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিনোদ বিহারি চৌধুরী মাষ্টারদা সূর্য সেনের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার লুন্ঠনে তাই তিনি হতে পেরেছিলেন অন্যতম তরুণ সহযোদ্ধা। তারা ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামকে ৩ দিনের জন্য স্বাধীন করে ছিলেন। টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা, অক্সিলারি ফোর্সের সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র লুট করেছিলেন। দামপাড়া পুলিশ লাইনের অস্ত্রের গুদাম সেটাও তিনি এবং তার দলের সদস্যরা মিলে লুঠ করেন।

১৯৩০ সালের এ ঘটনার পর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জঙ্গি রূপ ধারণ করে। সেদিনের এই বিপ্লবীদের দুঃসাহসিক কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়নি।চট্টগ্রাম সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল ৪ দিন। এই কয়েক দিনে ব্রিটিশ সৈন্যরা শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিনোদ বিহারিরাও বীর বিক্রমে পরে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ লোক ছিলেন। জালালাবাদ যুদ্ধ ছিল বিনোদ বিহারি চৌধুরীর প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ। বিনোদ বিহারির গলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও লড়াই থামিয়ে ছিলেন না।চোখের সামনে দেখেছিলেন ১২ জন সহকর্মীর মৃত্যু। অকুতোভয় বিপ্লবী বিনোদ বিহারি চৌধুরীর জন্মদিন ছিল গতকাল। কিন্তু চোখে পড়ার মতো কোন কর্মসূচি দেখা যায়নি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো নৈতিক দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালন করার জন্য বিপ্লবীদের জন্ম- মৃত্যু দিবস এবং বিপ্লবীদের সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানানো অতীব জরুরি।