Agaminews
Dr. Neem Hakim

ছাত্রলীগের জন্ম-ইয়াসির আরাফাত


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৪, ২০২১, ২:০৫ পূর্বাহ্ন /
ছাত্রলীগের জন্ম-ইয়াসির আরাফাত

ইয়াসির আরাফাত

“জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।এরপর থেকে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির জনকের হাতে গড়া সংগঠন, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিদ্যার সঙ্গে বিনয়, শিক্ষার সঙ্গে দীক্ষা, কর্মের সঙ্গে নিষ্ঠা, জীবনের সঙ্গে দেশপ্রেম এবং মানবীয় গুণাবলির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে অতিক্রম করেছে পথচলার ৭৩ বছর।এই ৭৩ বছরে ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবগাঁথা ইতিহাস।

১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।পাকিস্তানের দুটি অংশের ভিতর আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভূখণ্ডটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান।অল্প সময়েই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শোষণ,নিপীড়ন শুরু হয়ে গেলো, যে রাষ্ট্র গঠনে আমাদেরও ভূমিকা ছিল রাতারাতি তারা যেন হয়ে গেল সেই রাষ্ট্রের মালিক, আমরা নগণ্য প্রজা।বাঙালি জাতি তাদের সীমাহীন বৈষম্যের শিকার ও বঞ্চিত হয় মৌলিক অধিকার থেকে। সেই শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় আর শোষণের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে সময়ের দাবিতেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসমাজের ডাকা হরতালের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অবদান রাখতে শুরু করে ছাত্রলীগ। এরপর ১৯৫১ সালের আদমশুমারি চলাকালে সারা দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাংলা ভাষার পক্ষে মতামত দিতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলন জোরালো করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল প্রণিধানযোগ্য। ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল ভূমিকা ছিল।১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনী প্রচারে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের সামরিক শাসনের প্রতিবাদে ছাত্রলীগই প্রথম রাজপথে সোচ্চার হয়। ১৯৬২ সালের শিক্ষা-আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ও ছাত্রলীগের ১১ দফা, অতঃপর ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হতে ছাত্রলীগের অবদান ছিল মাইলফলক।

Zak, আজ 10:19 PM -এ-এ পাঠিয়েছেন
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সারা দেশে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সাড়ে ১৭ হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আত্মাহুতি দেন।আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম মানচিত্র।স্বাধীনতা অর্জনের এই গৌরব পৃথিবীর আর কোনো ছাত্রসংগঠনের আছে কি না আমার জানা নেই। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর বাংলাদেশ বারবার গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে সে সময়গুলোতেও ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছে।পিতার অসমাপ্ত কাজ সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষে ১৯৮১ সালে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে সেদিন থেকে প্রিয় নেত্রীর পাশে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮৩ সালে শিক্ষা আন্দোলন ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ১০ দফা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি মোকাবেলায় পালন করেছে অগ্রণী ভূমিকা। সে সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনে তিনবেলা নিজ হাতে রুটি তৈরি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সারারাত জেগে প্রস্তুত করেছেন খাবার স্যালাইন। সেগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে। ১৯৯৮ সালের বন্যাসহ সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একই কার্যক্রম নিয়ে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্রলীগ।২০০২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে ঢুকে ছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ছাত্রলীগ সেদিন শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীদের সম্ভ্রমহানির হাত থেকে রক্ষা করে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বিতর্কিত সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আটক আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে প্রথম সাহসী উচ্চারণ তুলেছিল বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগের কর্মীরাই।১-১১-র অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শত শত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ১৯ দফা দাবি পেশ করেছে।ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষাসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তাকল্পে কাজ করবে।সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা।বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার সোনালি অতীতের মতো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়বে। আর সে জন্যই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখছেন।নবীনদের মেধা দেশ গড়ার কাজে লাগুক, স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে বিধৌত হোক নতুন প্রজন্মের বিবেক ও চেতনা। অনাগত প্রজন্মের লড়াই হোক সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে, সব অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, দেশগড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।

Zak, আজ 10:19 PM -এ-এ পাঠিয়েছেন
আজ লাখো তরুণের প্রাণের উচ্ছ্বাস, আবেগ, ভালোবাসা আর ভালো লাগার সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩ তম জন্মদিন।শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন লড়াই-সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।এ জন্যই জাতির জনক বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস।’

লিখেছেনঃ
ইয়াসির আরাফাত
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।