Agaminews
Dr. Neem Hakim

১৯৭১ (পর্ব ছয়)


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৮, ২০২০, ১১:২১ অপরাহ্ন /
১৯৭১ (পর্ব ছয়)

মিজানুর রহমান। বসুন্দিয়া

নৌকা কতক্ষন চলল মনে নেই। এক সময় নৌযাত্রা শেষ হলো কোন এক অঘাটায়। সবাই নেমে নদীর কুল ধরে হাটতে শুরু করলাম, কিছুদুর হেটে রাস্তা পেলাম।জনমানব শুণ্য এক পায়ে পথ, এক দিকে মাঠ অপর পাশে নদী। নদীতেও কোন নৌকা নেই, কেমন থমথমে ভাব। আমাদের কারো মুখে কোন কথা নেই, সবাই লাইন দিয়ে হাটছি।খিদেয় এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছি যে দলের সঙ্গে থাকতে পারছি না।বারবার পিছিয়ে পড়ছি।সেই ভদ্রলোক আমার কাছে এলেন, ততক্ষনে ভদ্রলোকের পরিচয় পেয়ে গেছি। ইনিই হলেন ট্রেনিং করানো সেই বাঙ্গালী আর্মি। কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে উৎসাহিত করলেন, বললেন সামনে লোকালয়, ওখানে গিয়ে কিছু খেয়ে নেব

আর একটু এগিয়ে বড় রাস্তা পেলাম। কাচা রাস্তা, রাস্তার চেহারা দেখে সবাই অবাক হলো! রাস্তার পাশে একটা ঘাসও নেই সব কাটা ছেড়া, শুধু ঘাসের গোড়া গুলি মাথা বাড়িয়ে জানান দিচ্ছে একদিন সে এখানে সবুজ বিলাতো! রাস্তার দুই পাশের অনেক খানি জমির ফসলও নষ্ট।আমি মিলিটারির কাছে জানতে চাইলাম রাস্তা ও রাস্তার পাশ এমন কেন? উনি বললেন, হাজার হাজার মানুষ দল বেধে এ পথে কয়েক দিন ধরে হেটেছে তাদের পায়ের পাড়ায়, ঘাস ফসল সব মরে গেছে। আমি মনে মনে কল্পনা করতে থাকলাম, সেই অবর্ণনীয় দৃশ্য! বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,শিশু,কিশোর- কিশোরী, কত অসুস্থ মানুষ ওই দলে ছিল! কত যন্ত্রনা ভোগ করে হেটে এই পথ পার হচ্ছে, বাচ্চা গুলো কান্না করছে, বৃদ্ধ মানুষ গুলির কষ্ট ক্লান্ত দেহটা, হাজার মানুষের ভয়ার্ত চিৎকার! হঠাৎ আমার চিন্তায় ছেদ পড়লো, দুটো কাচা টাকা। দৌড়ে গিয়ে দলনেতাকে জানালাম, উনি বললেন কাছে রেখে দাও, রাস্তায় চোখ রাখো আরো পাবে। সত্যি কিছুক্ষনের মধ্যে আরো কয়েকটা কাচা টাকা পেয়ে গেলাম। (চলবে)