Agaminews
Dr. Neem Hakim

যশোর সদরের আরবপুর মোড়ে বালু ব্যবসায়ী বিশে হত্যার রহস্য উদঘাটন 


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৬, ২০২০, ১০:৩৫ অপরাহ্ন /
যশোর সদরের আরবপুর মোড়ে বালু ব্যবসায়ী বিশে হত্যার রহস্য উদঘাটন 

স্বীকৃতি বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টার

গত ২১.১২.২০২০ তারিখ রোজ সোমবার বেলা আনুমানিক ৩ঃ২০ ঘটিকার সময় আমিনুর রহমান বিশে (৪৫) বাড়ি থেকে গোসল করে আরবপুর মোড়ে আসলামের হোটেলে ভাত খাওয়ার সময় সাগর,আকাশ, তরিকুল,ফেরদৌস, নাঈম,রুবেলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন অামিনুল রহমান বিশেকে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ দিনই বেলা ৩ঃ৪৫ মিনিটে মৃত্যু বরন করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় মৃত আমিনুল রহমান বিশের ভাই মোঃ শুভ হাওলাদার (৩০) থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে অফিসার ইনচার্জের নিকট লিখিতভাবে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে মোঃ শুভ উল্লেখ করেন, তার ভাই নিহত আমিনুল ইসলাম বিশে বালির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আসামী সাগর ও তার ভাইয়ের যৌথ ব্যবসায়ের কারনে টাকাপয়সার লেনদেন জনিত কারনে সাগরের কাছে টাকা পাইতেন। পাওনা টাকা না দেওয়ায় উভয়ের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয় এবং ভিকটিম আমিনুর রহমান বিশেকে খুন করার জন্য ষড়যন্ত্র কর

ঘটনার বিবরণঃ- বাদী মোঃ শুভ হাওলাদার (৩০) থানায় হাজির হইয়া লিখিত ভাবে অফিসার ইনচার্জ বরাবর এই মর্মে এজাহার দায়ের করেন যে, তার ভাই মৃত ভিকটিম আমিনুর রহমান @ বিশে (৪৫) ব্যবসা করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিত। আসামী সাগর ও তার ভাই একই সাথে বালির ব্যবসা করিত। সেই কারনে বাদীর ভাই আসামী সাগর এর কাছে কিছু টাকা পাইতো। আসামী সাগর বাদীর ভাইয়ের বালির ব্যবসার পাওনা টাকা না দেওয়ায় শত্রুতা শুরু হয় এবং ভিকটিম আমিনুর রহমান @ বিশে’কে খুন কররার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এই সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ভার এসআই মোঃ সেকেন্দার আবু জাফর- এর উপর দেওয়া হয়।
গত ২৩.১২.২০২০ তারিখ রোজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামলার এজাহারে উল্লেখিত ১.মোঃ তরিকুল ইসলাম কর্ণ(৩০), ২.মোঃ তাহসিনুল ইসলাম নাঈম(২৪), ৩. মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকাশ(২৪) গণদের গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করেন।

২৪.১২.২০২০ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী অফিসার তদন্তকালে প্রকাশিত আসামি ১. মোঃ রাকিব হোসেন, ২. আসিফ আহম্মেদ ওয়াসিফ, ৩. নাসির হোসেন – দের বিশ্বস্ত সোর্সের দেওয়া তথ্যানুযায়ী তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি করে মোট তিনটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেন। উল্লেখিত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে লিখিত স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দির আলোকে ২৬.১২.২০২০ তারিখ রোজ শনিবার হত্যাকান্ডের মূল হতো এজারভুক্ত ১ নং আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম সাগর (২৯), পিতা- মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মাতা- শাহানারা বেগম, সাং- বালিয়া ভেকুটিয়া,থানা- কোতয়ালী মডেল,জেলা- যশোরকে ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে হত্যা কাজে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়।
আসামি সাগর (২৯)- কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমিনুল ইসলাম বিশের হত্যাকান্ডের কূলকিনারা পাওয়া ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোট ০৪ টি বর্মিজ চাকু উদ্ধার করা সম্ভব হলো।