Agaminews
Dr. Neem Hakim

নৈতিক অবক্ষয় মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো- বিদ্যাশ্রম


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২০, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন /
নৈতিক অবক্ষয় মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো- বিদ্যাশ্রম

স্বীকৃতি বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ

বই বিশ্বাসের অঙ্গ,বই মানব সভ্যতাকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ঐশ্বরিক ও জাগতিক জ্ঞান বৃদ্ধি করে।তাই বই পড়ার কোন বিকল্প নাই। একটি ভাল বইয়ের যে ক্ষমতা আছে, অর্থ, বিত্ত বৈভবের তার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই।একাবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে আমাদের পরবর্তী বংশধরেরা বড়ই বই বিমুখ হয়ে পড়েছে। দায়টা শুধু তাদের একার নয় এ দায়টা আমাদের সকলের।আশির দশকেও দেখা যেত প্রতিটি ঘরে ঘরে বই,পাড়ায় বা মহল্লায় দেখা যেত মিনি লাইব্রেরি। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেসব ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।

পুরাতন ঐতিহ্যকে জাগ্রত করার মন- মানসিকতা নিয়ে যশোর জেলার মনিরামপুর ও অভয় নগরের সীমান্তবর্তী নিভৃত বিখ্যাত মহাশ্মশান হেলার ঘাটের মুক্তেশ্বরী নদীর কোলঘেসে গড়ে ওঠা মহিষদিয়া গ্রামে আলোকিত,সৃজনশীল ব্যক্তি কনৌজ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ উদ্বোধন হল নীলিমা নিবাস বিদ্যাশ্রম।বিদ্যাশ্রমটির উদ্বোধন করেন জনাব শংকর বিশ্বাস – পিএইচডি ফেলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সহকারী অধ্যাপক ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকাসহ অত্র এলাকার স্ব স্ব মহিমায় উজ্জ্বল দীপ্ত নক্ষত্রেরা।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য বর্তমান সময়ে সকাল বিকাল হাঁটা লোকের অভাব নেই। কিন্তু শুধু ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখতে পারতে পারে না। শরীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতা খুবই প্রয়োজন। মানসিক সুস্থতার জন্য বইয়ের কোন বিকল্প নেই।বই পড়ার মাধ্যমে মানসিক আনন্দ লাভ করা খুবই সহজ।শুধু কি তাই একটি ভাল বই মানুষের মনোচক্ষুকে যেমন খুলে দেয় তেমনি মনের ভিতরে থাকা সুপ্ত জ্ঞান ও বুদ্ধিকে বৃদ্ধি করে ও বিকাশিত করে মনের ভিতরের আলো প্রজ্বলিত করে।

বই হচ্ছে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ যার সাথে জড় জাগতিক কোন সম্পদের তুলনা হয় না। একদিন হয়তো জাগতিক জড় সম্পদ সব নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনও শেষ হয়ে যাবে না তা চিরদিন হৃদয়ের জ্ঞান প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখবে।
বই পড়ার মাধ্যমে যেমন জ্ঞান বৃদ্ধি করে তেমনি মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে। মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধির ফলে কর্মস্পৃহার বৃদ্ধি ঘটে। বর্তমানের কর্পোরেট পৃথিবীতে মানসিক অবসাদ যেন প্রতি নিয়ত তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে বেঁচে থাকার স্পৃহাকে।আর তাই তো মানুষ মানসিক চাপের জন্য অবসাদে ভোগে। অবসাদে ভুগতে ভুগতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে আত্মহত্যার মতো কঠিন ও চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যা আদৌ কাম্য নয়।একটি বইই পারে মানসিক চাপ কমাতে।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কিছু দক্ষতার প্রয়োজন হয়।যেমনঃ আবেগের চাপে টিকে থাকা,মানসিক চাপে টিকে থাকা,নিজেকে অন্যের জায়গায় ভাবা, সমস্যার সমাধান,সিদ্ধান্ত গ্রহন,নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা, সৃজনশীল চিন্তা,সঠিক যোগাযোগ,অান্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক, সহানুভূতি, সমঝোতা, অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন।একটি ভাল বই পারে জীবন দক্ষতার জ্ঞান অর্জনের জন্য সহায়ক হিসাবে কাজ করতে।
বই পড়ার ফলে মানুষের কল্পনা শক্তির বৃদ্ধি, স্মরণ শক্তির বৃদ্ধি, শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি, লেখনী শক্তি বৃদ্ধি, সহানুভূতি বোধ, আত্মসম্মান বোধ, সংলাপ দক্ষতা ,উপস্থাপন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

বই মানুষকে আলোকিত করে ,বিকশিত করে ও
পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।তাই নীলিমা নিবাস বিদ্যাশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের প্রতিটি এলাকায় গড়ে তুলা সময়ের দাবী মাত্র।