Agaminews
Dr. Neem Hakim

অবশেষে জলভাসী মানুষের দাবীর সাথে একাত্মতা- দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে আশার আলো।


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২০, ৭:১৬ অপরাহ্ন /
অবশেষে জলভাসী মানুষের দাবীর সাথে একাত্মতা- দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে আশার আলো।

স্বীকৃতি বিশ্বাস স্টাফ রিপোর্টারঃ

যশোরের অংশ বিশেষ, অভয়নগর, মনিরামপুরের বৃহদাংশ ও ডুমুরিয়া ও ফুলতলার একাংশ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। আশির দশক থেকে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি। জলাবদ্ধতা শুরু হওয়ার নব্বইয়ের দশকে সরকারিভাবে পাউবো কর্তৃক টিআরএম( টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প গ্রহন করার ফলে কয়েক বছর সাময়িক মুক্তি পেয়েছি।কিন্তু কোন অদৃশ্য কারনে স্থানীয় জনগনের দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত টিআরএম প্রকল্প বাদ দিয়ে খালখনন ও নদীখননের মতো বিভিন্ন কল্পনা প্রসূতঃ প্রকল্প গ্রহন করা হয় ফলে অক্টোবর /২০২০ থেকে অদ্যাবধি জলাবদ্ধতার করাল গ্রাসে আক্রান্ত হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছে।
যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে’যশোর জেলাধীন ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার বর্তমান সমস্যা ও সমাধানে করণীয়’ বিষয়ক সভায় সর্বসম্মতভাবে টিআরএম( টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়ন ও একই সাথে শুধু মাত্র আমডাঙ্গা খালের ২.৫ কিলোমিটার খনন ও প্রশস্তকরণ করলে ২৫% শতাংশ সমাধান সম্ভব বলে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং এই সিদ্ধান্ত সুপারিশ আকারে পানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
যশোরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জনাব স্বপন ভট্টাচার্য। উক্ত সভায় পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি ও ভবদহ জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও

সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভবদহ এলাকার জনগণের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ভবদহ এলাকার মানুষ কষ্টে আছে। ভবদহ অঞ্চলে ৭৫ হাজার হেক্টর জমির মতো জলাবদ্ধতায় ভুগছে। তার মধ্যে ৪ হাজার হেক্টর জমি ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ভবদহের স্থায়ী সমাধানের একমাত্রই পথ হলো টিআরএম বাস্তবায়ন। ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করার জন্য আমডাঙ্গা থেকে শিবসা পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার খাল খনন ও প্রশস্ত করতে হবে। এ জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ৫০ কোটি টাকার মধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতার ২৫ শতাংশ নিরসন সম্ভব হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টিআরএম বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে এলাকার মানুষকে স্পষ্ট করতে হবে।ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের ক্ষতি পূরনের টাকা সহজেই তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করে ক্ষতি পূরণ বিতরণ করতে হবে। নিষ্কণ্টক জমির মালিক যেন হয়রানির শিকার না হয়। কত বছরের জন্য তাদের জমিতে টিআরএম বাস্তবায়ন হবে সেটি তাদের কাছে পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম দরকার।এ জন্য তাদেরকে নিয়ে টিআরএম বাস্তবায়ন করতে হবে।একই সঙ্গে টিআরএম বাস্তবায়নে স্থানীয়দের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আজকের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত সুপারিশ আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) রফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভবদহ জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক এনামুল হক বাবুল, সদস্য অ্যাড. কামরুজ্জামান সরদার, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল,মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হামিদ, মফিজুর রহমান নান্নু,প্রদীপ হালদাী,মুক্তিযোদ্ধা অধীর কুমার পাড়ে,মনিরামপুর উপজেলার ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় প্রমুখ।