Agaminews
Dr. Neem Hakim

আজ স্যার ফজলে হাসান আবেদ-এর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২০, ৩:৪০ অপরাহ্ন /
আজ স্যার ফজলে হাসান আবেদ-এর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী

স্বীকৃতি বিশ্বাস। স্টাফ রিপোর্টারঃ

আজ ২০.১২.২০২০ তারিখ রোজ রবিবার বিশ্বের অন্যতম ও নাম্বার ওয়ান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

স্যার ফজলে হাসান অাবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা ছিলেন একজন ভূস্বামী। মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন। তার পূর্ব পুরুষেরা ছিল ঐঅঞ্চলের জমিদার। শিক্ষা জীবন শুরু হয় হবিগঞ্জে।৩য় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত হবিগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।পরবর্তীতে দেশভাগের পর হবিগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি বানিয়াচংয়ে চলে আসেন এবং কুমিল্লা জেলা স্কুলে ভর্তি হয়ে ৭ম থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেন। এর পর তিনি চাচার সাথে পাবনায় চলে গেল।

এবং পাবনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫২ সালে পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।১৯৫৬ সালের অক্টোবর মাসে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচারে ভর্তি হন এবং কোর্স অসমাপ্ত রেখে ১৯৫৬ সালে লন্ডনে চলে যান।
১৯৬২ সালে লন্ডনের চাটার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসে চার বছরের পেশাদার কোর্স সমাপ্ত করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৪ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব ল’ এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ডক্টর অব এডুকেশন’ ডিগ্রী লাভ করেন।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ৩৬ বছর বয়সে ১৯৭২ সালে তদানীন্তন সিলেট জেলায় একটি ক্ষুদ্র ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প হিসাবে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন।গত ৪৯ বছরে বহুমার্তৃক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ব্র্যাক বিশ্বের বৃহত্তম ও নাম্বার ওয়ান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা, নন ফরমাল প্রাইমারীও ফরমাল প্রাইমারী স্কুল,মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বহুবিধ কার্যক্রম পরিচলানা করে পৃথিবীর বুকে একটি অন্যন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।সংস্থাটি নিজ দেশ ছাড়াও এশিয়া ও আফ্রিকার ১৩ দেশের ১০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।
উল্লেখ্য পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পনিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত থাকাকালে ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তার জীবনের মোড় সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দেয়।তনি মুক্তিযুদ্ধের সমার্থনে ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ এবং ‘ হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখেন।

২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর জেনেভাভিত্তিক অান্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’ কর্তৃক ব্র্যাক বিশ্বের শীর্ষ এনজিও হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।প্রভাব,উদ্ভাবনশীলতা,ও টেকসই সমাধান এই ৩ টি বৈশিষ্ঠের নিরিখে বিশ্বের ৫০০ এনজিও মধ্যে তুলনা মূলক বিশ্লেষণ করে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ- এর কর্মময় জীবনে অসংখ্য পুরষ্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।শিক্ষার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পুরষ্কার ‘ইদান প্রাইজ(২০১৯), প্রাক- শৈশব উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য লেগো ফাউন্ডেশন কর্তৃক লেগো পুরষ্কার(২০১৮),দারিদ্র্য পীড়িত মানুষের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ‘ লুডাটো সি অ্যাওয়ার্ড(২০১৭)’, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ(২০১৫), ট্রাস্ট উইমেন হিরো অ্যাওয়ার্ড(২০১৪),স্প্যানিশ অর্ডার অব সিভিল মেরিট২০১৪),লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডাল অ্যাওয়ার্ড(২০১৪), শিক্ষাক্ষেত্রে ওয়াইজ প্রাইজ ফর এডুকেশন (২০১১),ডেভিড রকফেলার ব্রিজিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড(২০০৭), ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড(২০০৭),ইউএনডিপি মাহবুবুল হক অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং কনট্রিবিউশান টু হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (২০০৪),ওলফ পামে প্রাইজ(২০০১) এবং র‍্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ (১৯৮০)
অান্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অশোকা স্যার ফজলে হাসান আবেদকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে এবং মর্যদাসূচক গ্লোবাল অ্যাকাডেমি ফর সোশ্যাল আন্ট্রপ্রেনিওরশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিশন অন হেলথ রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট (১৯৮৭-৯০),ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাউথ এশিয়ান কমিশন অন পভার্টি অ্যালিভিয়েশন(১৯৯১-৯২) এবং হাইলেভেল কমিশন অন লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট অব দ্য পুওর(২০০৫-২০০৮) -এর সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১০ সালে ব্রিটেনের রানী প্রদত্ত নাইট হুড মর্যদা লাভ করেন।২০১০ সালে জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ সমূহের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত পরামর্শ দাতা দলের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি ২০১৪ ও ২০১৭ সালের ফরচুন ম্যাগাজিন কর্তৃক বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তিত্বেরঅন্যতম হিসেবে উল্লেখিত হন।২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডের রাজা কর্তৃক নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হন।
সারাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে।সৃষ্টিশীল, নিঃশ্বার্থ, ত্যাগী, প্রচার বিমূখ,সাহিত্যপ্রেমী,ক্ষণজন্মা অন্যন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী, স্যার ফজলে হাসান আবেদ- এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীর দিনটি যথাযথ মর্যদার সাথে দেশে ও দেশের বাইরের সকল ব্র্যাকের অফিসে/ প্রতিষ্ঠানে ২ঃ০০ থেকে ৫ঃ০০ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে।কর্মসূচিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবন দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে ব্র্যাকের সকল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ব্র্যাকের সকল কর্মী স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তাঁর কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ ও সকল শ্রেণীপেশার মানুষের পাশেথেকেজেন্ডারসমতা,নারীরক্ষমতায়ন,নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ পৃথিবী গড়ার যে প্রত্যয়ব্যক্ত করতেন তা বাস্তবায়নের জন্য সকল কর্মী দৃঢ় অঙ্গীকার করেন। পরিশেষে তার আত্মার মাগফেরাত/ শান্তি কামনায় কর্মীরা স্বস্ব ধর্মের আলোকে