Agaminews
Dr. Neem Hakim

বিজয়ের বারতা পৌঁছে যাক ঘরে ঘরে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৫, ২০২০, ১১:১৫ অপরাহ্ন /
বিজয়ের বারতা পৌঁছে যাক ঘরে ঘরে

স্বীকৃতি বিশ্বাস

বিজয় দিবসের শত আনন্দ
রয়েছে লুকায়ে মায়ের বক্ষে
সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে।
বিজয় দিবসের শত আনন্দ
রয়েছে লুকায়ে মায়ের বক্ষে
ইজ্জত হারানোর কষ্টে।
বিজয় দিবসের শত আনন্দ
রয়েছে লুকায়ে মায়ের বক্ষে
স্বামী হারানোর দুঃখে।
বিজয় দিবসের শত আনন্দ
রয়েছে লুকায়ে মায়ের বক্ষে
বঙ্গবন্ধুকে হারানোর কষ্টে।

বিজয় শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় বি+ জয়।বি অর্থ বিশেষভাবে আর জয় শব্দের অর্থ পরাজিত করা বা জয়লাভ করা। কোন দেশ বা জাতিকে ভাষার জন্য যুদ্ধ করতে হয়নি।ভাষার জন্য যুদ্ধ করতে করতে পর্যাক্রমে নিজের অধিকারের প্রশ্নগুলো এসেছে।অধিকার বলতে বুঝানো হয়েছে আমার মুখের ভাষায় কথা বলা,জ্ঞান চর্চা করা আমার অধিকার। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে মুক্তি আমার রাষ্ট্রীয় অধিকার।এই অধিকার গুলো অর্জনের জন্য ত্রিশ লক্ষ মুক্তি কামীকে শহীদ হতে হয়েছে,কয়েক লক্ষ মায়ের ইজ্জত ও বুক ছেড়া ছোট সোনামনিকে পর্যন্ত হারায়ে স্বাধীনতাকে অর্জন করতে হয়েছে যা কোন সভ্যদেশের স্বাধীনতার জন্য করতে হয়েছে বলে সন্ধীহান। তাই বিজয় দিবসটি আমাদের কাছে এতো গুরুত্ববহ।
বিজয় দিবস বাংলাদেশী আপামর জনতার কাছে বিশেষ দিন হিসাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সারাদেশে পালন করা হয়।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাক বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর ফল সরূপ পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ১৬ ডিসেম্বর দিনটিকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারীভাবে দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সকল দেশ স্বাধীনতার মাসে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।১৯৭২ সাল থেকে বিজয় দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশে দিবসটি যথাযথ মর্যদায়,ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়।১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।সেখানে সেনা বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহন করেন দেশের প্রধান রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী। এই কুচকাওয়াজ দেখার জন্য প্রচুর জন সমাগম হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী,বিরোধী দলীয় নেতা- কর্মী,বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ জাতির জন্য একটি গুরুত্ব পূর্ণঘটনাচলচ্চিত্র,কবিতা,নাচ,গান,নিবন্ধ,গণমাধ্যম তা বিভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলে।

এছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ, বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান, মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।দেশের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয় এবং সরকারীবেসরকারী অফিস আদালতগুলিতে সুসজ্জিত আলোক সজ্জা করা হয়।
কিন্তু গত মার্চ/২০২০ থেকে করোনা শুরু হয়ে অদ্যাবধি করোনা মহামারি চলমান থাকায় সরকারি বেসরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে সকল প্রকার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান মালা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৫০ তম বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেশের আপামর জনগনকে নিজের ব্যক্তিগত ও পত্রিকার পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে আগামী দিনগুলিতে করোনামুক্ত,ক্ষুধামুক্ত,দারিদ্রমুক্ত অসম্প্রদায়িক সোনার বাংলায় ভরে উঠুক এই হোক আগামীদিনের প্রত্যয়।