Agaminews
Dr. Neem Hakim


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৫, ২০২০, ১:২৪ অপরাহ্ন /

নাটকীয়তার শেষ দিন স্বীকৃতি বিশ্বাস।

২৬ মার্চ/১৯৭১ স্বাধীনতা ঘোষণা হওয়ার পর নানা রকম ঘাতপ্রতিঘাত, দুঃখবেদনা ঝড়বৃষ্টি, গ্রীষ্মশীত উপেক্ষা করে স্বাধীনতার তার প্রান্তে পৌঁছে যায় মুক্তিযোদ্ধারা ও মিত্র বাহিনী।কিন্তু তখনও নাটকীয়তা বজায় রাখে পাকবাহিনী। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র অভ্যুদয় কয়েক ঘন্টার ব্যাপার। যুদ্ধ ক্ষেত্রে তো বটেই কুটনৈতিক চালেও পরাজিত হতে হতে পাকিদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকার উপক্রম। আজকের এইদিনে দেশের অধিকাংশ যুদ্ধক্ষেত্রে মুক্তিকামী যুদ্ধা,জনতার বিজয়োল্লাস পরিলক্ষিত হয়।বস্তুত যুদ্ধ ক্ষেত্রে পাক বাহিনীর পরাজয় ঘটে যায়। পরাজয় মেনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা বাকি।মুক্তি বাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী দেশের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলায় ঢাকা শহর অচল হয়ে পড়ে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাঠায় ভারতের কাছে। কিন্তু ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের দাবি জানায় এবং ভারতীয় সেনা প্রধান ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯ ঘটিকার মধ্যে আত্মসমর্পণের সময় বেঁধে দিয়ে জরুরি বার্তা পাঠান জেনারেল নিয়াজির কাছে।বার্তায় তিনি বলেন আত্ম সমার্পণের প্রস্তুতির জন্য ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৫ টা থেকে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯ টা পর্যন্ত বিমান হামলা বন্ধ রাখবেন।কিন্তু এর ব্যতয় ঘটলে প্রচন্ড বিমান হামলা শুরু করবেন। নিয়াজির আত্মসমার্পণের খবর পেয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে। জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘে উত্থাপিত সবকটি খসড়া ছিড়ে ফেলে সদলবলে বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলেন,এটাই বোধ হয় আমার শেষ বক্তৃতা। এখানে আত্মসমর্পণ করতে আসেনি।জাতিসংঘকে জালিয়াতি ও ধোকাবাজির পীঠস্থান অাখ্যায়িত করেন এবং বলেন ফ্রান্স ও ব্রিটেন স্পষ্ট কোন পক্ষ না নেওয়ায় পাক- ভারত যুদ্ধ বিরতির বিষয়ে কোন চুক্তি হতে পারলো না।
অন্যদিকে মার্কিন সপ্তম নৌবহরকে মোকাবেলার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর সমার্থনে সোভিয়েত রণতরীর ২০ টি জাহাজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান নেয়। ফলস্বরূপ মার্কিন রণতরীর সপ্তম নৌবহর যুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখে।পরাজয়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও পাকিস্তান আত্মসমর্পণ না করায় মিত্র বাহিনী চুড়ান্ত আক্রমনের পরিকল্পনা নেয়। ১৪ তারিখ রাতেও নবীনগরে দূই পক্ষের প্রচন্ড লড়াই চলে এবং এ লড়াইয়ে প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।

১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় জেনারেল নিয়াজিকে নির্দেশ দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে আত্মসমর্পণের জন্য যেসব শর্ত দিয়েছেন,যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য মেনে নেওয়া যেতে পারে।
এ দিনটি মূলত দখলদার বাহিনীর চুড়ান্ত আত্মসমর্পণের দিনক্ষণ নির্ধারনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।