তুর্কি কেন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করছেনা? জানতে হলে পড়ুন

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৬ AM, ২৭ অগাস্ট ২০২০

গাজী আল মামুনঃ

তুর্কির সাথে ইসরাইলের সম্পর্কটা বর্তমানে ইসরাইলের একমাত্র গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার জানা উচিত ফিলিস্তিন ২ টি খণ্ডে বিভক্ত, একটি পশ্চিম তীর, অপর টি গাজা অঞ্চল। পশ্চিম তীর শাসন করে ইয়াসির আরাফাতের ফাতাহ দলটি। এই পশ্চিম তীর সরকার টি পরিচালনা করে মাহমুদ আব্বাস। আব্বাস সরকার পরিচালনায় অর্থের যোগান দেয় সৌদি, ইসরাইল আমেরিকা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুরো পশ্চিম তীর বর্তমানে দখল করে ফেলেছে ইসরাইল। যেমন জর্দান, সিরিয়ার সাথে সীমান্ত থাকলেও কোথাও ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলী চেক পোষ্টের অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে পারেনা। সহজ কথায় ইসরাইলী সেনারা পশ্চিম তীরের যে কোন ঘরে প্রবেশ করে যাকে তাকে বন্দি করতে পারে এবং যে কোন ভুমি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে তারা ইহুদি বসতি বানাতে পারে এবং বানাচ্ছে।

পক্ষান্তরে গাজা ছিল একটি ছোট্ট এরিয়া, যেখানে বর্তমানে বাস করে ২৫ লক্ষ ফিলিস্তিনি। সমুদ্র সীমান্ত এবং মিশর সীমান্ত সহ গাজার বেশ কিছু ভুমিও আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে ইসরাইলের দখলে ছিল।
এরদোয়ান সরকার শক্তিশালী হওয়ার পর থেকে গাজা অঞ্চল থেকে ইহুদি সেনাদের পিঠাতে পিঠাতে বর্তমানে গাজার ভেতরে অবস্থান তো দুরের কথা গাজা সীমান্তের ১০ কিলোমিটার দুরে মানে স্নাইফার রাইফেলের গুলির আওতার বাইরে নিয়ে গেছে ইসরাইলী সেনাদের। এ সবই সম্ভব হয়েছে এরদুয়ানের কল্যাণে।

আপানরা দেখতে পাচ্ছেন গাজা পাওয়ার শীপ নামে এরদুয়ান ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাঠিয়ে গাজাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
গাজায় সমুদ্র বন্দর নির্মান করেছে, কন্টেইনার উঠানামার জন্য বাসমান ক্রেইন সরবরাহ করেছে।
তুর্কি থেকে গাজা সফরের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার তুর্কি জাহাজে করে সরাসরি গাজা প্রবেশ করছে।
মোট কথা গাজাকে একটি উন্নত শহর বানাতে যা যা দরকার সব তুর্কি থেকে জাহাজ ভরে গাজা নগরীতে পাঠাচ্ছে

আসল কথা হলো তুর্কি এই সব করতে পারছে ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায়। ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলে মধ্যে সাগর থেকে তুর্কি এ্যাইড জাহাজ গুলো গাজা উপকুলে প্রবেশ করতে দিতনা ইসরাইল।
যদিও এই কাজটি তুর্কি সহজে করতে পারেনি, প্রথম যাত্রীবাহী জাহাজে ইসরাইলী সেনারা হামলা করলে বহু তুর্কি শহীদ হয় যাদের ছবি এই জাহাজে লটকানো আছে।

যেহেতু পশ্চিম তীর ইসরাইল দখল করে ফেলেছে সেহেতু গাজার বাসিন্দা রাই মুসলিম বিশ্বের জেরুজালেম মুক্তির একমাত্র স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অত্যন্ত মজার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে গাজা সীমান্তের আর্শ্বে পার্শ্ব মানে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ টি ক্ষুদ্র গ্রাম আর কোন বসতিই ইসরাইল গড়ে তুলতে পারেনি। এর কারন ইসরাইল আকাশ পথে আক্রমন করলে হামাস যুদ্ধারা নিকট বর্তী ঐ গ্রাম গুলোতে মিসাইল ছোড়ে।

যদি এরদুয়ানের সাথে অন্য আরব রাষ্ট্রের মত ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকতো তাহলে এতদিনে মুসলমান জাতির জেরুজালেম উদ্ধারের স্বপ্ন বিলুপ্ত হয়ে যেত। কারন এই গাজাবাসীকে ইসরাইলের পরামর্শে আরবের হিজড়া দুই যুবরাজ মিশরে পাঠিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রটিকে বিলুপ্ত করতে চেয়েছিল মাত্র ২ বছর পুর্বে।
এরদুয়ান ও কাতার গাজাবাসীকে আগলে রাখায় ঐ হিজড়া যুবরাজদের স্বপ্ন
মাঝরাতের স্বপ্নদোষের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে। এটা প্রমানিত তুর্কির সাথে যদি ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকতো তাহলে যেভাবে বিশাল পশ্চিমতীর দখল করেছে টিক সেই ভাবে ক্ষুদ্র গাজা দখল করার মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটাতো আজ।

সুতরাং তুর্কির সাথে ইসরাইলের সম্পর্কটা বর্তমানে ইসরাইলের একমাত্র গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :