Agaminews
Dr. Neem Hakim

৭১- সালের এই দিন


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১২, ২০২০, ১:২৯ অপরাহ্ন /
৭১- সালের এই দিন

স্বীকৃতি বিশ্বাস

“নদনদী খালবিলের দেশ
গঙ্গাবিধৌত পলি মাটির দেশ
লক্ষ শহীদের দেশ
সে যে আমার বাংলাদেশ।

মাটির ভিতরে ঘুমিয়ে রয়েছে
হাজার শহীদের কায়া।
তারাই হয়তো দিবে পাহারা
বাংলা মায়ের ছাঁয়া।

-১২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা সেনানিবাসে প্রাদেশিক সরকারের সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল রাও ফরমান আলীর সভাপতিত্বে আল-বদর আল- শামস কেন্দ্রীয় অধিনায়কদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় তা ছিল বাঙালি জাতির জন্য খুবই দুঃখজনক।”একটা জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও তাহলে সেই জাতির মেধাকে ধ্বংস কর।”-তাদের বৈঠকে বুদ্ধিজীবি হত্যার নীল নকাশা তৈরি করা হয়।
ফরমান আলী বিশেষ বাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামের তালিকা হস্তান্তর করেন। ঐ রাতেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে আল-বদরেরা নিজাম উদ্দিন আহমেদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফাকে তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং তাঁরা আর ফিরে আসেনি। পাক হানাদার বাহিনীর দোসরদের হাতে শহীদ হন।

পাকিদের লড়াইয়ের শেষ মুহুর্ত সন্নিকটে আসা সত্ত্বেও যুদ্ধ ক্ষেত্রে তাদের পিছু হটার ধারণা অপরিবর্তিত ছিল। ১২ ডিসেম্বর সকাল ৮ ঘটিকায় নরসিংদীর ওপর পাকিস্তানীদের কর্তৃত্ত্বের অবসান ঘটে। বিকালে ভারতের আরও একটা ইউনিট ডেমরা ঘাট থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের মধ্যে হাজির হয়।

সূর্যাস্তের পূর্বেই ময়মনসিংহ ও জামালপুরের দিক থেকে জেনারেল নাগরার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্যারাসুট ব্যাটেলিয়ানদের সাথে যোগ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মিত্রবাহিনী টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও কালিয়াকৈরের পাশ্ববর্তী অঞ্চলে প্রচন্ড আক্রমণ চালায়।মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে কাদেরিয়া বাহিনী। শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ।
দিনাজপুর অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী খানসামা থানা আক্রমণ করে।উক্ত যুদ্ধে ৭ মুক্তিযোদ্ধা ও ১৫ জন মিত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হন। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর হাতে ১ জন মেজরসহ ১৯ জন পাকবাহিনীর সদস্য ধরা পড়ে। আজকের এদিনে দিনাজপুরের বিরল থানার বহলা গ্রামে পাকবাহিনী নৃশংস গণহত্যা চালায়।
১২ ডিসেম্বর পাক-হানাদার বাহিনীর একটি দল বহলা গ্রামে প্রবেশ করে।মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে পাকবাহিনী পিছু হটতে থাকে।কিন্তু এই সময় কাঞ্চন ক্যাম্পের পাক সেনারা গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় গ্রামবাসী তল্পিতল্পা গ্রাম ছাড়ার উদ্যোগ নিলে পুনরায় মাইকযোগে এক জায়গায় আসার নির্দেশ দেয়।নির্দেশ মোতাবেক এক জায়গায় আসে।তখন মাগরিবের নামাজের সময় হয়ে আসে এবং অনেকে নামাজের জন্য কাতারে দাঁড়ায়। তখন পিছন থেকে পাক বাহিনী ব্রাশফায়ার চালায় এবং ঘটনাস্থলে ৩৭ জন শহীদ হন।

আজকের এইদিনে নীলফামারী,গাইবান্ধা,নরসিংদী, সরিষাবাড়ি, ভেড়ামারা ও শ্রীপুর পাক-হানাদার মুক্ত হয়।
দিনটিকে স্মরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে হানাদার মুক্ত এলাকা ও গণকবর গুলিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ,আলোচনাসভা ও শহীদের প্রতি বিশেষ স্মৃতি চারণ করা হয়।