Agaminews
Dr. Neem Hakim

৭১-এর এই দিনে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১০, ২০২০, ২:৪৩ অপরাহ্ন /
৭১-এর এই দিনে

স্বীকৃতি বিশ্বাস, স্টাফ রিপোর্টার।

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার আছে।মৌলিক অধিকার থেকে যখন বঞ্চিত হয় তখন ভিতরে ভিতরে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ভাষা বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম। পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগন পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণ ও সরকার কর্তৃক সামাজিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে নিষ্পেষিত হয়ে আসছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগের পর থেকে। সে নির্যাতন মনে না নিলেও মেনে নিয়েছিল কিন্তু যখন তাদের আজীবন লালিত মুখের ভাষার উপর আঘাত আসে তখন ভীরু বাঙালি ( পাকিস্তানীদের ধারনা অনুযায়ী) ভীষণ সাহসী হয়ে ওঠে। যার ফল শ্রুতিতে অাপামোর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ সম্মূখ সমরে কেউ বা তার স্ব স্ব অবস্থান থেকে( শুধুমাত্র কিছু পাকিদের প্রেতাত্মা ছাড়া)।

১৯৭১ সালের এই দিন রাজধানী ঢাকা ছাড়া দেশের বেশিরভাগ জেলা শত্রুমুক্ত হয়ে যায়। ঢাকায় চূড়ান্ত হামলা চালিয়ে শত্রুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় যৌথ বাহিনী। ঢাকায় চলছে কারফিউ আর ব্ল্যাক আউট। এদিকে, মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় রেডিও ঢাকা কেন্দ্র স্তব্ধ হয়ে যায়। বোমা-রকেট ছুঁড়ে বিধ্বস্ত করে দেওয়া হয় ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর।
“পাপ ছাড়েনা বাপেরে”- আর তাই হয়তো যুদ্ধে পরাজয়ের আশংকায় লে. জেনারেল নিয়াজী পালাবার পায়তারা করছিলেন।
কিন্তু ” পালাবার পথ নাই
যম আছে পিছে।”- তার এই গোপন অভিসন্ধি ফাঁস করে দিয়ে বিবিসি পাকিদের সামনে যমের মত অবতীর্ণ হয়।আর তাই নিয়াজী স্বীয় দুর্বলতা ঢাকার জন্য আজ ইন্টার-কন্টিনেন্টাল হোটেলে দম্ভভরে বলেন, কোথায় বিদেশী সাংবাদিকরা, আমি তাদের জানাতে চাই, আমি কখনো আমার সেনাবাহিনীকে ছেড়ে যাব না।

মিত্রবাহিনীর বিমান আক্রমণে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটা জাহাজ ভর্তি পাকবাহিনী বঙ্গোপসাগর দিয়ে পালাবার সময় ধরা পড়ে। একটি জাহাজে পাকবাহিনী নিরপেক্ষ দেশের পতাকা উড়িয়ে সিঙ্গাপুরে পালাবার পথে মিত্র নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।
জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে পাকিস্তানের প্রতিনিধি সাক্ষাত করে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবির কথা বলেন। চীনের অস্থায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রী
বলেন, ভারতের কার্য কলাপে সম্প্রসারণবাদী নগ্নরূপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্রী সাম্রাজ্যবাদীরা নির্লজ্জের মতো ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের ত্রাণকর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে বর্বরোচিত কাজ করেছে।
এই দিনে সম্মিলিত বাহিনী উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধে সর্বাত্মক সাফল্য অর্জন করতে থাকে। মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর, রংপুর ও সৈয়দপুরের শত্রুবাহিনীকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যৌথবাহিনী এই তিন শহর ছাড়া রংপুর ও দিনাজপুর জেলা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করে। রাতে পাকবাহিনী জামালপুর গ্যারিসন ছেড়ে ঢাকার দিকে পালাবার সময় শহরের অদূরে যৌথবাহিনীর মুখোমুখি হয়। এ-যুদ্ধে প্রায় ১৫০০ পাকসেনা হতাহত হয়। বাকিরা আত্মসমর্পণ করে।
দিবাগত রাতে আল-বদরবাহিনীর গুপ্ত ঘাতক দল দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী সম্পাদক ও পিপিআই-ও চিপ রিপোর্টারকে বাসভবন থেকে অপহরণ করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লীতে বলেন, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত জাতিসংঘের আহ্বান ভারত প্রত্যাখ্যান করেনি বা গ্রহণও করেনি। প্রস্তাবটি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজয় শুধু তখনই সম্ভব হবে যখন বাংলাদেশ সরকার কায়েম হবে এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত এক কোটি শরণার্থী তাদের বাস্তুভিটায় ফিরে যেতে পারবে।
১০ ডিসেম্বর আজকের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আলোচনা,শহীদ বেদীতে পুষ্প স্তবক অর্পণসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছে।