Agaminews
Dr. Neem Hakim

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ – এর এই দিনে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৮, ২০২০, ৪:৪৯ অপরাহ্ন /
৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ – এর এই দিনে

স্বীকৃতি বিশ্বাস।

জীবন মানে দুরন্ত ষাড়ের মতো
ক্ষিপ্ত গতিতে
নিরন্তর ছুটে চলা।
চলার পথে আসা সকল
জ্বরা ব্যাধিবাধা-বিপত্তি,
প্রতিকূলতায় রক্তাক্ত
ক্ষতবিক্ষত হওয়া।
ক্ষত বিক্ষত অঙ্গের রক্ত মুছে
আবার সমূদ্রের মতো তীব্র গতিতে
আগ্রাসী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া।

– স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার দামাল ছেলে,মেয়েসহ সাধারণত জনতা দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তেমনিভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাঙালি জনতার সাথে প্রভাবক সহায়ক হয়ে ভারত সরাসরি যুদ্ধ ক্ষেত্রে শুধু নয় কূটনৈতিক বিজয়ের জাতিসংঘে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছিল।ফলশ্রুতি ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর এইদিনে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সম্মিলিত বাহিনী চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে।জলপথ,স্থলপথ ও আকাশ পথে আক্রমণ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।রন কৌশলে পরিবর্তনের ব্যাপক সুফল পেতে থাকে মিত্র বাহিনী। আর ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ভাষায় হানাদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের বাণী ও লিফলেট করে আকাশে ছড়িয়ে দেন।ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে এ আশ্বাস দেন যে, আত্মসমর্পণ করলে তাদের প্রতি জেনেভা কনভেনশনের রীতি অনুযায়ী সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পাক সামরিক শাসকরা কিছুতেই আত্মসমর্পণের দিকে না গিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বাংলাদেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেন। একের পর এক বিভিন্ন জেলা শত্রুমুক্ত হওয়ার জন্য মুক্তিবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর মনোবল কয়েক গুণ বেড়ে যায়।ফলে বাংলাদেশের সর্বত্র যুদ্ধের তীব্রতা ও ক্ষিপ্রতা বাড়তে থাকে। প্রতিটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে হানাদার বাহিনীকে একের পর এক পরাজিত করতে থাকে মুক্তিবাহিনী। হানাদার বাহিনীর অবস্থানের ওপর মুক্তিসেনারা আর্টিলারি আক্রমণ চালিয়ে শেষ রাতের দিকে তাদের আত্মসমর্পণ করাতে সক্ষম হয়। রাতব্যাপী যুদ্ধে ২৬ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। হানাদার বাহিনীর কতিপয় সেনা বিমান বন্দরের ঘাঁটি ত্যাগ করে সেনানিবাসে ফিরে যায়। বিমান বন্দরের ঘাঁটিতে ধরা পড়া কতিপয় পাক সেনা আত্মসমর্পণ করে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি পালন এবং সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ পরিষদে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে জাতিসংঘের কোনও প্রস্তাবই বাস্তবায়ন করা যাবে না।

এদিন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,কুষ্টিয়া, বরিশাল,পিরোজপুর,পটুয়াখালী,হানাদারমুক্ত হয়। রাস্তায় নেমে আসে জনতার ঢল। কুমিল্লার আপামর জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মুক্তির উল্লাসে বরণ করে নেয়। বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মিত্রবাহিনী জনতার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অাজকের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাষ্ট্রীয় ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয় এবং শহীদ সন্তানদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।