Agaminews
Dr. Neem Hakim

ডিসেম্বরের এই দিনে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২০, ৬:৩৯ অপরাহ্ন /
ডিসেম্বরের এই দিনে

স্বীকৃতি বিশ্বাস।

“এই বাংলাদেশকে রক্ষা করব
সোনার বাংলা করে তুলব।
থাকবে না মারামারি হানাহানি
শোষণ শাসন আর দারিদ্র্যের কষাঘাত।
সমতাই হোক সবার অঙ্গীকার।”

-স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের আপামোর জনতাসহ মুক্তিযোদ্ধারা খাদ্য,বস্ত্র,চিকিৎসা ও চিকিৎসার সরঞ্জামের অভাবে ছিলেন। আর ভারতের শরনার্থী ক্যাম্পে অবস্থিতরাওখাদ্যসহ বিভিন্ন পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে অকাতরে মারা যাচ্ছে।এমনি এক ক্রান্তিকালে দীর্ঘ ত্যাগ ও তীতিক্ষার মধ্যে দিয়ে ৯ মাসের সংগ্রামের ফসল কেবল ঘরে উঠতে শুরু করেছে। ১ থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের কয়েকটা এলাকা শত্রু মুক্ত হওয়া ছাড়াও রাজনৈতিক এবং কুটনৈতিকভাবে বিজয় অবসম্ভাবী হয়ে আসছে। তদ্রুপভাবে ডিসেম্বর এর ৭ তারিখ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ দিনটিও ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি বীর মুক্তিসেনাদের আপ্রাণ লড়াই জন্য কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পাক হানাদার বাহিনী। ১৯৭১ এর ৭ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় দেশের মাগুরা নালিতাবাড়ি, শ্রীবর্দী, বরুড়া, গোপালগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানিগঞ্জ, রাজনগর, মেহেরপুর, শালিখা, সাতক্ষীরা, কেন্দুয়া, চুয়াডাঙ্গা, বেগমগঞ্জ, শেরপুর, হালুয়াঘাট প্রভৃতি স্থান।

যুদ্ধ ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য আসছে। দেশের সব জায়গাতেই পাক হানাদার বাহিনী পরাজয়ের মুখে পিছু হটছিল । এদিন ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়। এর আগের দিন ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।ভূটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ৩ ডিসেম্বর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির গুরুত্ব লাভ করে।

এদিন পশ্চিম রণাঙ্গনেও ভারতীয় বাহিনীর ব্যাপক সাফল্য লক্ষ্য করা যায়। ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্বারা করাচী বন্দর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ভারতীয় জঙ্গী বিমান করাচীতে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। পাকিস্তানের আকাশে তাদের অবাধ তৎপরতার প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান নিরাপত্তার জন্য ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্ট হাউসের নিচে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেন।
আজকের এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য জেলা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচী পালন করা হয়।