ভোলার ইউপি সচিব আলাউদ্দিনের ক্ষমতার দাপটে কারাগারে দুই দিনমজুর

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৪৪ PM, ২৬ অগাস্ট ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার  ভাড়াটিয়া বাহিনী দিয়ে গাছ কাটার হরিলুট। ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ইউপি সচিব ও বাপ্তা সুন্দরখালী গ্রামের মৃত্যু আবদুল লতিফ হাওলাদার এর ছেলে আলাউদ্দিন (৫০) এর ক্ষমতার দাপটে সাজানো মামলায় কারাগারে পূর্ব ইলিশা ১নং ওয়ার্ডের রতন সরদার ও তার ভাতিজা ইয়ারুল হোসেন। এদিকে দিনমজুর রতন সরদার ও ইয়ারুল হোসেন কারাগারে যাওয়ার পর বুধবার সকালে ভোলা থেকে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক গাছ কাটার চেষ্টা করেন ইউপি সচিব আলাউদ্দিন এর বাহিনী। ভাড়াটিয়া বাহিনী এসে গাছকাটার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা উত্তেজিত বিরাজ করলে খবর পেয়ে ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই সুজনসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং গাছকাটা বন্ধ করেন। রতন সরদারের স্ত্রী জানান, আমরা দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর যাবৎ এই জমিতে বসবাস করে আসছি কিন্তু কয়েক বছর ধরে চরসামাইয়া ইউনিয়নের সচিব আলাউদ্দিন এই জমি দাবী করেন কিন্তু তিনি কোন ফয়সালায় বসতে রাজি হয় না। আমরা গরীব মানুষ কোন রকম জীবনযাপন করি কিন্তু তাদের বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলায় নিংস্ব হয়ে গেছি, এখন আবার একটি সাজানো মামলায় আমার স্বামী ও বাসুরের ছেলে কারাগার আর এই সুযোগে আলাউদ্দিন এর নির্দেশে তার ছেলে ভাড়াটিয়া বাহিনী এনে গাছের ব্যাপারী দিয়ে গাছ কাটতে থাকেন আমরা বাধা দিলে আরো হুমকি দামকি দিয়েছেন। রতন সরদারের যুবতী মেয়ে বলেন, আলাউদ্দিন এর ভাড়াটিয়া বাহিনীর লোকজন আমার গায়ের উড়না টানাহেঁচড়া করেছে, বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালমন্দ করেছে, ভোলা থানা নাকি তারা ম্যানেজ করে এখানে এসেছেন। এদিকে পুলিশ ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে আলাউদ্দিন এর ছেলে ফাহাদসহ ২০/২৫ জন অপরিচিতো লোক দেখলে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা জমি উদ্ধারের জন্য এসেছি তবে জমি যে আপনাদের কি প্রমাণ আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন সেটা সচিব আলাউদ্দিন সাহেব জানে। তবে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতেই ভোলা সদর থানার এ এস আই শেখর একটি কাগজ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আলাউদ্দিন এর বাহিনীর সকলে দলবল নিয়ে আবার এসে বলেন, আমাদের কাগজ নিয়ে পুলিশ এসেছে খেলা হবে এবার তবে এ এস আই শেখর বলেন, আমি কোন গাছকাটার নির্দেশ দেয়নি এবং এমন কোন কাগজ ও আমার কাছে নাই। তাহলে কে দিলো সচিব আলাউদ্দিন কে ৩৫ বছর বসতী বাড়ীর অন্যের গাছ কাটার নির্দেশ? তিনি ইউপি সচিব, ভাই সেনাবাহিনীর সদস্য আরেক ভাই আনসার বাহিনীর সদস্য তাহলে কি সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন? সচেতন মহলের প্রশ্ন জমি ও গাছ সচিব আলাউদ্দিন এর হলেও যেহেতু মামলা চলমান তাহলে তিনি আইন অমান্য করে কেনো ভাড়াটিয়া বাহিনী এনে গাছ কাটার হরিলুট ও মহিলাদের লাঞ্চিত করার উদ্দেশ্য কি? তবে চরসামাইয়া ইউনিয়নের সচিব আলাউদ্দিন বলেন, লেখালেখির কি দরকার? আপনারা গেছেন কিছু খরচ দিয়ে দিবো। ভোলা সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, আমি জানার পর পুলিশ দিয়ে গাছকাটা বন্ধ করেছি, ফয়সালা ছাড়া কোন গাছকাটা হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :