Agaminews
Dr. Neem Hakim

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজ ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০২০, ৯:৫৯ অপরাহ্ন /
প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজ ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি

স্বীকৃতি বিশ্বাস।

ভালবাসার মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হলে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আগেকার দিনের রাধাকৃষ্ণ, চন্ডীদাস -রজকিনি, লাইলী-মজনু,শিরি- ফরহাদের প্রেম কাহিনী আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের জানা।এই প্রেম ছিল একজনের প্রতি আরেকজনের অন্ধ ভালবাসা। সে ভালবাসায় ছিল না কোন চাওয়া-পাওয়া ।

তাই তো চন্ডীমঙ্গল কাব্যে চারন কবি বলেছেনঃ

“প্রীতিতে মজিলে মন কিবা হাড়ি কিবা ডোম।”

অর্থাৎ প্রেমে মজলে জাতপাত মানে না। সত্যিকারের ভালবাসায় থাকে না ষড় রিপু অর্থাৎ কাম ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসার্য। এগুলো সবই মধ্য যুগীয় প্রেমের বৈশিষ্ট। আর একাবিংশ শতাব্দীর প্রেম মানে ফাঁদে ফেলে ফয়দা লোটা। প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্ট ফোন যার হাতে সেই একজন ফটোগ্রাফার। আমরা অধিকাংশ লোক জানি না কারো ছবি তুলতে হলে তার অনুমতি নিতে হয়।

আবার যারা জানি তারা না জানার ভান করে অনাধিকার চর্চা করে ফেলি। একজন ছেলে আরেকজন মেয়েকে বা একজন মেয়ের আরেক জন ছেলেকে ভাল লাগতেই পারে বা ভালবাসতেই পারে।কিন্তু তার মানে এই নয় যে একজন আরেক জনের ব্যক্তিগত যে কোন ধরনের ছবি তুলতে পারবেন বা ভিডিও করতে পারবেন। এখনকার ভালবাসা মানেই যেন মনের থেকের দেহের প্রতি অাকর্ষণ, অবৈধ যৌন সঙ্গম। প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারীদের কাছ থেকে ফয়দা লোটা। এরকম ঘটনা সারাদেশে অহরহ ঘটছে। তেমনি একটা ঘটনা আজ কয়েকদিন যাবত যশোর শহরের”টক অফ দ্যা টাউন হয়েছে।প্রেমের ফাঁদে ফেলে যশোর সরকারি মহিলা কলেজেরএকছাত্রীর(১৯ বছর)আপত্তিকর ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন কেশবপুর থানার পাঁজিয়া গ্রামের দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে অনিন্দ্য সরকার(২২)। বর্তমানে তিনি যশোর শহরের বেজপাড়ার ১৪৩ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকেন।বেজপাড়া বনানী রোডে বসবাসের সুবাদে অনিন্দ্যের সাথে মেয়ের পরিচয়। তাদের মধ্যে এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে।

তার মেয়েকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গোপনে ভিডিও ও আপত্তিকর ছবি মোবাইল ফোনে ধারন করে এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে আসামি অনিন্দ্য ওই ছবি দেখিয়ে মেয়ের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ওই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে মেয়েটি তার মাকে বিষয়টি জানায়। মেয়ের মা মোবাইল ফোনে ছেলেটির সাথে কথা বলেন, তার মেয়ের সম্মানহানি না করার জন্য ও টাকা না চাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। নিরুপায় হয়ে মেয়ের মা গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের একটি পত্রিকা অফিসের সামনে যেতে বলেন। পূর্বেইতিনি পরিচিত লোকদের বিষয়টা জানিয়ে রাখেন এবং সেখানে গেলে লোকজনের সহায়তায় অনিন্দ্যকে আটক করেন ও পরে পুলিশে সোপর্দ করে মামলা করেন। পুলিশ তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। ফোনের ট্রাস্ট বিন ফোল্ডারে পর্ণ ছবি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।অভিযুক্ত অনিন্দ্য সরকারকে (২২) পুলিশ আটক করেছে । এরকম শত শত দুর্ঘটনা বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে ও শহরে অহরহ ঘটছে। কিন্তু তার পরেও সচেতনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে তার জন্য পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারনা চালানো অতীব জরুরী।