Agaminews
Dr. Neem Hakim

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের”কৈশোরকালীন পুষ্টি” -এর প্রশিক্ষণ বাধ্যতা মূলক


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন /
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের”কৈশোরকালীন পুষ্টি” -এর প্রশিক্ষণ বাধ্যতা মূলক

স্বীকৃতি বিশ্বাস।

কৈশোর মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময় কিশোর- কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যার অভাবে তাদের শরীব বৃত্তীয় ও মানসিক বিকাশ বিঘ্নিত হয়। যেহেতু আজকের কিশোর- কিশোরীরা আগামী দিনের ভবিষ্যত সেহেতু তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতীব জরুরী। কৈশোর কালে তাদের ভিতর বয়ঃসন্ধি কালীন পরিবর্তন যেমনঃ মেয়েদের কন্ঠস্বর পরিবর্তন হয়, ওজন বাড়ে,নিতম্ব ও উরু চওড়া হয়, স্তন বড় হয় এবং একজন কিশোরী মা হওয়ার জন্য অতিব প্রয়োজনীয় মাসিক চক্র শুরু হয়।আর ছেলেদেরও কন্ঠস্বর পরিবর্তন, মুখে দাড়ি ও গোফ গজায় এবং ছেলেদের স্বপ্নদোষ শুরু হয়।

এসময় ছেলে ও মেয়ে উভয়ই নিজের স্বপ্নের রাজকন্যা ও রাজপুত্র খোঁজে। তাদের ভিতর হরমোন জনিত কিছু পরিবর্তন হয়। যেহেতু মেয়েদের মাসিক ও ছেলেদের স্বপ্নদোষ হয় এবং শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে সেহেতু তাদের কি ধরনের পুষ্টিকর খাবার উচিত সে বিষয়ে ধারনা থাকা দরকার জরুরী। আর এ ধারনা তারা মা-বাবা, শিক্ষকের কাছ থেকে পেতে পারে। আর কিশোর- কিশোরীদের শরীর বৃত্তীয় পুষ্টির জন্য কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত তার উপর দেশের সব সরকারী- বেসরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অন্য দুইজন সহকারী শিক্ষকসহ মোট তিনজন শিক্ষককে মোবাইল অ্যাপস “অ্যাডোলেসেন্ট নিউট্রিশন ট্রেনিং”- এর মাধ্যমে (Adolescent Nutrition Training) কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ইউনিসেফ ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা অ্যাপসের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ নিতে হবে শিক্ষকগনকে। আর অ্যাপসে সংক্রিয়ভাবে পাওয়া প্রশিক্ষণ সনদের কপি স্ব স্ব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জমা দিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ নির্দেশনা দিয়ে সব সরকারি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষকদের উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্স সব জেলা শিক্ষা কমকর্তা, ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একাডেমিক সুপারভাইজারদের করতে বলা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দেশব্যাপী কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য তৈরি করা প্রশিক্ষণ অ্যাপস “Adolescent Nutrition Training”এবং ‘কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম গাইডলাইন’ গত ৮ আগস্ট/২০২০ তারিখে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি উদ্বোধন করেছেন।দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে “কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম” সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও বেসরকারি) প্রধান শিক্ষকসহ মনোনীত অন্য দুজন সহকারী শিক্ষক অ্যান্ড্রয়েড প্রশিক্ষণ অ্যাপস “Adolescent Nutrition Training”-ডাউনলোড করে “কৈশোরকালীন পুষ্টি কার্যক্রম”সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া সনদের কপি আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে জমা দিতে হবে। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার পর কিশোর- কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত তার উপর শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ সত্যি যুগোপযোগী ও প্রসংশনীয়।আশা করা যায় শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির উপর সঠিক ধারনা দিয়ে সুস্বাস্থ্য সম্পন্ন জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবেন।