Agaminews
Dr. Neem Hakim

করোনা কালীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও এ্যাসাইনমেন্ট


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন /
করোনা কালীন শিক্ষা ব্যবস্থা ও এ্যাসাইনমেন্ট

স্বীকৃতি বিশ্বাস।

প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। সৃষ্টির পর থেকে মানুষ রোদ,ঝড়বৃষ্টি,নানা রকম হিস্র প্রাণী ও নানা ধরনের অসুখ-বিসুখের সাথে সংগ্রাম করে পৃথিবীতে টিকে আছে। তখনকারদিনে না ছিল খাদ্যের নিশ্চয়তা না ছিল ওষুধের নিশ্চয়তা। সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ নিজেকে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত করে নিতে পরেছে বিধায় মানব সভ্যতা এখন টিকে আছে আর তা না হলে কয়েক হাজার বছর পূর্বেই ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যেত।

পৃথিবীতে পূর্বেও বিভিন্ন সময় মহামারীর অার্বিভাব হয়েছে। মহামারীর অর্বিভাব বিশ্লেষন করলে দেখা যায় কাকতালীয় ভাবে শত বছর পর পর এ রকম মহামারী পৃথিবীতে এসেছে এবং মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সে সব মহামারী থেকে মানুষ মুক্তিও পেয়েছে। সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য তা জানি না আমাদেরও এরকম একটা মহামারী দেখতে হচ্ছে। বিপদে পড়লে যেমন মানুষ চেনা যায় তদ্রুপ করোনা মহামারি আসার পর আমরা চিনতে পেরেছি কে কতটা কাকে ভালবাসে।করোনা আসার পর আমরা দেখলাম সন্তান তার জন্মদাতা মাতা/ পিতাকে বাড়ি থেকে জঙ্গলে ফেলে আসছে, স্ত্রী তার প্রাণপ্রিয় স্বামীকে বা স্বামী তার আদরের স্ত্রীকে রেখে সন্তানসহ অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

এ সকল ঘটনা আমাদের বুঝিয়ে দেয় একাবিংশ শতাব্দীর কর্পোরেট দুনিয়ায় আমরা কতটা অমানবিক হয়ে গেছি। করোনার কারনে গত ১৭ মার্চ/২০২০ তারিখ থেকে অদ্যাবধি বন্ধ আছে শুধু মাত্র কওয়ামী মাদ্রাসা ছাড়া। করোনাকালীন সময়ে লকডাউন চলার কারনে অনেক অভিভাবক কর্মচ্যুত হয়েছেন, গ্রামের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজ হারিয়ে লকডাউনের ভিতর মানবেতর জীবন যাপন করেছেন। করোনার কারনে সাধারন শ্রমজীবি জনগন থেকে শুরু করে চাকরিজীবি, ব্যবসায়ী সকলেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এসব ক্ষতি হয়তো পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব কিন্তু আমাদের দেশের ভবিষ্যত শিশু,কিশোর- কিশোরীসহ সকল শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার যে ক্ষতি হয়েছে তা আদৌ পূরন হওয়ার নয়। সরকার যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেনি তখন শিক্ষার্থীদের শিখন শূণ্যতা পূরনের জন্য রেডিও, টিভি,মোবাইল ও ইন্টারনেটকে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করেছে। কিন্তু সেখানে অনেক শিক্ষার্থীর ডিভাইস সংক্রান্ত সমস্যাসহ ইন্টারনেট সংযোগ দূর্বলতা পরিলক্ষিত হয়।

এ ছাড়াও পরবর্তীতে দেখা যায় বাংলাদেশে শীত আসায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে যাচ্ছে তাই শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় এনে সরকারকে আবার শিক্ষার্থীদের শ্রেণী উপযোগী প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের জন্য বিকল্প পথ হিসাবে শিক্ষার্থীদের এ্যাসাইনমেন্ট বা বাড়ির কাজ দেওয়া ও নেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়েছে। আমাদের দেশে এ্যাসাইনমেন্ট শব্দটি বহুল প্রচলিত শব্দ নয়। এ্যাসাইনমেন্ট বিএড,এমএডসহ উচ্চতর ডিগ্রির জন্য এবং সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। যেহেতু এ্যাসাইনমেন্ট বা কাজ দেওয়া ও বুঝে নেওয়ার বিষয় সেহেতু কিছু অসংলগ্ন শিক্ষক বিষয়টাকে পুঁজি করে বিভিন্ন ধরনের ফি আদায়ের পথ হিসাবে খুঁজে নিলেন। যা সত্যি অমানবিক! শিক্ষকদের সম্মান সর্ব্বজন বিদিত এবং শিক্ষকরা সব সময় ছাত্র ও অভিভাবকদের সুখদুঃখের সাথী। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক এ্যাসাইনমেন্ট ক্রয়বিক্রয়ের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লেন।এমন কি অনেক শিক্ষক এ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে ব্যবসার জন্য ইউটিউবে ছেড়ে দিলেন যা আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়। কারন এ্যাসাইনমেন্ট হলো সৃজনশীলতার সাথে সম্পকিত।শিক্ষার্থীদের দেওয়া কাজটা অনধাবন করবে,তারপর মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখবে এবং ব্যক্তি- সমাজ জীবনে সাথে সম্পৃক্ত করবে। পরিশেষে বলব করোনার আবহে আমরা সবাই সবার প্রতি মানবিক আচরন করব। কোন বিশেষ বিষয়কে পুঁজি করে এই দূর্যোগময় মুহুর্তে ছাত্র,শিক্ষক ও অভিভাবকসহ আপামোর জনগনের সাথে সম্পর্কের অবনতি না ঘটানোয় সমীচীন হবে।