Agaminews
Dr. Neem Hakim

মনিরামপুরে এসিল্যান্ডের বদলি নিয়ে তোলপাড়


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২০, ৭:৫২ অপরাহ্ন /
মনিরামপুরে এসিল্যান্ডের বদলি নিয়ে তোলপাড়

 স্বীকৃতি বিশ্বাস

স্রোতের তালে গা ভাসিয়ে দাও তাহলে সর্বত্রই বিপদ কম। স্রোতের অনূকূলে চলায় যতোটা সুবিধা, প্রতিকূলে চলায় ততোটাই অসুবিধা। সৎ পথে, সত্যের পথে চলতে গেলে প্রতি পদে পদে বাঁধা বিঘ্ন আসবে সেটা চিরন্তন সত্য। কিন্তু সৎ ও ন্যায়ের পথে থাকলে দেখা যায় এক সময় ” সত্য মেব জয়তে” অর্থাৎ সত্যের একদিন জয় হবেই। গত ১৩.০৮.২০২০ তারিখে মোঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী যশোর জেলার মনিরামপুর থানায় ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার( ভূমি) হিসাবে যোগদান করেন।

যোগদান করেই নিজ দপ্তরে দালালদের দৌরাত্ম্য দেখে বিস্মিত হন এবং আগে ঘরের আগাছা জঞ্জাল পরিষ্কারের নিমিত্ত নিজ দপ্তরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এক ব্যক্তিকে আটকসহ দালালমুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ঘোষণা করেন জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী নাগরিকরা কোন দালাল অথবা প্রতারকদের কাছে যাবেন না। ভূমি অফিসে এসে নিজের কাজ নিজেরা বুঝে নিয়ে যাবেন।যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যে একের পর এক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের কারণে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৌর শহরের আলোচিত মালিকানাধী কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত কিছু লোককে হাতে-নাতে ধরে জেল জরিমানা করায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক খোরশেদ আলম চৌধুরীকে সাধুবাদ জানান।

করোনার ক্রান্তিকালে যখন মানুষ কর্ম হারিয়ে দিশেহারা তখন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মনিরামপুর পৌর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম্য বাজারে জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধির মহা উৎসবে মেতে উঠেছিল ঠিক তখন তাৎক্ষনিকভাবে তিনি একের পর এক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যারা অনিয়ম-দুর্নীতির পাশাপাশি ভেজাল কারবারে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধেঅভিযান চালিয়ে সমগ্র মনিরামপুর বাসীর প্রশংসার জোয়ারে ভেসেছেন। কিন্তু এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত তাদের হাত যে অনেক লম্বা তার চাক্ষুষ প্রমাণ মনিরামপুর বাসী দেখল।

এই সৎ ও সুন্দর জনবান্ধন মানুষটাকে মাত্র ৩ মাসের মাথায় অন্যত্রে বদলী করা হলো।অন্যত্র বদলী করা হয় চলমান মাসের ২৪ তারিখে।আর এ বদলী নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সচেতন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মন্তব্য করেন,জনগণের স্বার্থে ভাল কর্মকর্তারা বেশী দিন এক দপ্তরে থাকতে পারেন না। তবে মনিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাত্র ৩ মাসের মাথায় বদলীর ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, স্বাভাবিক বদলীর অংশ হিসেবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি অন্যত্রে বদলী হয়েছেন। তবে সব কথার শেষ কথা জনকল্যানে যে সকল কর্মকর্তা নিজেদের নিবেদিত করেন তাদের হয়তো এ ধরনের অনাঙ্খিত বদলীর জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হয়। আশাকরি,অাপনি যেখানেই থাকেন ভাল থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন আর জনগনের মনি কোঠায় অাপনার কর্মের মাধ্যমে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।