হায়াত যতদিন, বেচেছিলে কতদিন?

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৫৩ AM, ২৬ অগাস্ট ২০২০

মুগ্ধ খন্দকার, ক্রিয়েটিভ কন্টেন্ট রাইটার।  মানুষ সামাজিক জীব৷ সমাজ সংসার ছাড়া মানুষ বেচে থাকতে পারে না। প্রাচীন কালে যখন মানুষ পাথর ঠুকিয়ে আগুন জালিয়ে খেতো তখন থেকেই মানুষ সংঘবদ্ধ ভাবে বসবাস করে৷ এছাড়াও ইসলাম ধর্মে মানুষ জাতীকে সৃস্টির সেরা জীব বলা হয়েছে৷ সমাজে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বেচে থাকতে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। দুঃখ কস্ট হতাশা নিয়েই জীবন৷ যদি জীবনে দুঃখ অনুপস্থিত থাকে তাহলে সেটা সুখ কখনোই হতে পারে না৷ পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী মানুষটাও হতাশায় ভোগে, সেও তার মার্ছেটিসে বসে চোখের পানি আড়াল করে। জীবনযুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে যখন একজন মানুষ বুঝতে পারে সমাজ, সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনে কোথাও সে সুখ খুজে পায় না তখন সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷ আর যা আমরা ইংরেজিতে বলি সুইসাইড! সুইসাইড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ সুই সেইডেয়ার থেকে এসেছে যার অর্থ নিজেকে হত্যা করা৷ বিশিষ্ট চিকিৎসকগণ মনে করেন ৯৯℅ আত্মহত্যা করেন মানসিক অবসাদ জনিত কারনে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতিবছর ১০ লক্ষরো বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যায়। আর ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী ডিএমপির গত দুই বছরের হিসেবে দেশে গড়ে ২৯ জনেরো বেশি আত্মহত্যা করে থাকে। আবার বলা হয়ে থাকে সারা বিশ্বে গড়ে ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে৷ গ্রিক দার্শনিক প্লেটো আত্মহত্যার বিষয়টি গভীর গবেষণা করে বলেছিলেন, কাপুরুষতার জন্য যদি কেউ আত্মহত্যা করে তাহলে তা অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ । আত্মহত্যা নিয়ে অনেক দার্শনিক আরো বলেন, আত্মহত্যা মানে হেরে যাওয়া, যারা জীবনে মূল্যহীন হয়ে পড়ে ও তাদের কে দেখানোর মত রাস্তা কেউ খুজে দেয় না তখন তারা আত্মহত্যায় শান্তি খুজে পায়৷ কিন্তু ইসলাম সহ প্রায় সব ধরণের ধর্মই আত্মহত্যাকে অপরাধ কিংবা হারাম বলে সাব্যস্ত করেছেন। আত্মহত্যার এই মিছিলে এমন কোনো শ্রেনী পেশার মানুষ যে নাই যে এই কাজ করেনি। মুসলিম, হিন্দু, বোদ্ধ, খ্রিস্টান,এছাড়াও ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাহিত্যিক, গায়ক, কবি, লেখক, সাংবাদিক সব শ্রেণির মানুষই আত্মহত্যা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীর চেয়ে পুরুষের আত্মহত্যার হার বেশি দেখা যায় আর বেশিরভাগই দেখা যায় ৩৫ বছরের নিচে। বাংলদেশের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড যাকে বলা হয় ঢাবি। এখানে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা কতই না সাধনা করে! তবে ১৭ আগস্ট ঢাবি ছাত্র ইমাম হোসেন আত্মহত্যা করে যেনো ঢাবি থেকে বের হওয়া একটি ভবিষ্যৎ দেশের মেরুদণ্ডকে ভেংগে দিয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন আবেগের বসে প্রেম করে ছেকা খেয়ে আত্মহত্যা করাটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে, ট্রেন্ড বলতে ভালবাসার গভীরতা বোঝাতে এই আত্মহত্যাই একমাত্র রাস্তা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই ট্রেন্ড ফলো করতে যেয়ে জন্ম দেয়া বাবা-মাকে জীন্দালাশ বানানো অশোভনীয়। পরিশেষে এটাই শেষ কথা যে, সৃস্টিকর্তা আপনার জন্য যে হায়াত রেখেছেন, তার উপর দিয়ে খবরদারী দেখিয়ে ইহকাল পরকাল উভয়ই হারাবেন না। খারাপ সময়টা চুপ করে সহ্য করে যান! দেখবেন ভালো সময়টাতে খারাপ সময়ের স্মৃতি গুলো মনে করে একা একা হাসছেন

আপনার মতামত লিখুন :