Agaminews
Dr. Neem Hakim

মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৭, ২০২০, ৩:১৩ অপরাহ্ন /
মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার

 স্বীকৃতি বিশ্বাস।

গত ০৮ মার্চ/২০২০ বাংলাদেশে প্রথম কোভিট-১৯/করোনা রোগী সনাক্ত হয়। করোনার ভয়াবহতা থেকে দেশের শিক্ষার্থী, অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী,বিভিন্ন দপ্তরও মন্ত্রালয় এবং সর্বোপরি আপামোর জনগনকে নিরাপদ রাখার জন্য সরকারী ও বেসরকারী পর্যায় থেকে সামাজিক সচেতনতা মূলক কার্যক্রম গ্রহন করেন। যেমন- ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না আসা। কিন্তু দেখা যায় এতো কিছু করার পরও জনগন সচেতন হচ্ছে না। বিধায় বাধ্য হয়ে লকডাউন দিতে সরকার বাধ্য হন।

লকডাউনের ফলে সকল বয়সের জনগন কিছুটা হলেও বাধ্য হন ঘরে থাকতে।লকডাউনের জন্য ঘরে থাকার ফলে শিশু,কিশোর- কিশোরী, যুবক-যুবতী, বয়স্ক প্রৌঢ়ের প্রচলিত জীবন যাত্রায় সম্পূর্ণ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো মনমানসিকতা কারো ভিতর প্রস্তুত ছিল না। ফলে পারিবারিক অশান্তি,ধর্ষণ, আত্মহত্যা ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়। আবার শিশু, কিশোর- কিশোরীরা দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মোবাইল, ইন্টারনেটে অাসক্ত হয়ে পড়ে। কারন হিসাবে দেখা যায় নামীদামী এমন কি গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে।কিন্তু এই অনলাইন ক্লাসের বাইরেও অধিক সময় ধরে শিক্ষার্থীরা ফেসবুক,ইউটিউব, হোয়াটস এ্যাপ,বিভিন্ন অনলাইন গেমস,ইমো,ম্যাসেঞ্জারসহ গুগোল এ্যাপস ব্যবহার করে শিক্ষার সহায়ক বিষয় ছাড়াও নিষিদ্ধ বিভিন্ন সাইটে ঢুকে পড়ছে৷ তার ফলে তাদের শরীরিক ও মানসিক বৃত্তীয় হরমোন জনিত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কিশোর বয়সে এই ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ ও অল্প বয়সে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। আবার অল্প বয়সের স্বল্প জ্ঞানের ফলে জীবন দক্ষতা সম্পর্কে অজ্ঞতার সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধূমপান ও মাদকাসক্তি,ছিনতাই ও রাহাজানির সাথেও জড়িয়ে পড়ছে।আবার দীর্ঘসময় মোবাইল ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর রেডিকাল রশ্মি দৃষ্টি,শ্রবন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে যা তাদের স্বাভাবিক মেধাবিকাশের অন্তরায় হচ্ছে। মোবাইল- ইন্টারনেট যেমন সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রেখেছে তেমনি একই ভাবে সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনেও ফাঁটল ধরিয়েছে। অনেক সময় কিশোর- কিশোরীদের মতো তাদের অভিভাবকদের মধ্যেও মোবাইল ও ইন্টারনেেটের অপব্যবহারের ফলে বিভিন্ন অসামাজিক ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পিতা-মাতা- সন্তানের সামাজিক সম্পর্কের। অাবার বর্তমান সময়ের এই অাধুনিক মাধ্যমটি ব্যবহার করে অনেকে আউট সোর্সের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া সরকারী- বেসরকারী সকল পর্যায়ের অফিসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ ভালভাবে সম্পন্ন করছেন। অাজকের শিশু,কিশোর -কিশোরীরা অাগামী দিনের ভবিষ্যত। এই শিশু,কিশোর – কিশোরীরা যাতে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য মাবাবা, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের জনগনকে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি রাখা অতীব জরুরী এবং এজন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরিসীম।