Agaminews
Dr. Neem Hakim

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস”- উপলক্ষে মানববন্ধন


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ন /
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস”- উপলক্ষে মানববন্ধন

 স্বীকৃতি বিশ্বাস

প্রচলিত সমাজব্যবস্থা, নারীর প্রচলিত অবস্থান, নারীর প্রতি তৎকালীন সমাজের প্রচলিত যে দৃষ্টিভঙ্গি–এসব কিছু নিয়ে তৎকালীন সমাজের ভিত্তিকে বেগম রোকেয়া নাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন। নারী শিক্ষা, নারীর স্বাধীনতা,বাইরে চলাফেরা, কাজের অধিকার, স্বাধীন চিন্তা-চেতনার অধিকার– এই বিষয়গুলো যে নারীর মুক্তির সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। নারীর সামাজিক,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই এবং নারী-পুরুষ সম্পর্কে সমাজের ভ্রান্ত ধারনা থেকে নারীদের মুক্তির জন্য যে জেন্ডার সমতা প্রয়োজন তা তিনি যুক্তিসহকারে তুলে ধরেছেন তাঁর লেখা ও কাজে।

তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের অর্ধাংশ নারীসমাজকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রেখে দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি কখনই সম্ভবপর নয়। একজন শিক্ষিত মা তার সন্তানের প্রাথমিক শিক্ষাদানের জন্য খুবই গুরুত্ব পূর্ণ।আর তাই সারাজীবন তিনি সমাজের পিছিয়ে থাকা নারী সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে অধিকার সচেতন করে তোলার কাজে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

বেগম রোকেয়া সারাজীবন নারী মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু বাংলার মুসলিম সমাজ তো নয়ই এমনকি হিন্দু সমাজও নারী জাগরনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। বেগম রোকেয়ার মতো একজন মনীষীর প্রয়োজন ছিল বাঙালি নারীর নবজাগরণের পথ প্রশস্ত করার জন্য।’শুধু শিক্ষাগত মুক্তি নয়, নারীর সার্বিক মুক্তির কথা চিন্তা করেছিলেন বেগম রোকেয়া। আর তাই সমাজ বিনির্মানে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে স্মরণ করে “নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস”- সারাদেশে পালিত হয়। এ উপলক্ষে ২৫.১১.২০২০তারিখ রোজ বুধবার সকালে যশোরে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়েছে শহরের দড়াটানা মোড়ে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সেভিয়ার, হেলথ কেয়ার এন্ড কাউন্সিল সেন্টার, ইউকএন্ড, আহসানানিয়া মিশন, ব্র্যাক ও মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।