Agaminews
Dr. Neem Hakim

চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম (রহ)এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২০, ১:৪০ অপরাহ্ন /
চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম (রহ)এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আমীর ধর্মীয় আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক নেতা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম (রহ) পীর সাহেব চরমোনাই এর ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই ২০০৬ সালের ২৫ শে নভেম্বর সকাল ৯ টায় মুরীদদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল শুরুর ১ দিন পূর্বে তার বাসভবনে জিকিররত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহর অলি ছোটবেলা থেকে দ্বীনদার ছিলেন। তার পিতা হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ) চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর সাহেব এর কাছ থেকেই তিনি এলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করিম (রহ) ১৯৩৫ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক(রহ) ছিলেন চরমোনাই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর। তার পাঁচ পুত্রের মধ্যে মেজ পুত্র সৈয়দ ফজলুল করিম (রহ) পিতার কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। সৈয়দ ফজলুল করিম চরমোনাই আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ডিগ্রী অর্জন করার পর হাজার ১৯৫৭ সালে ঢাকার লালবাগ মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাশ করেন। এরপর চরমোনাই মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন ১৯৭৩ সালে পিতা সৈয়দ এছহাক (রহ) ইন্তেকালের পর তিনি আমীরুল মুজাহিদীন এর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।

সৈয়দ ফজলুল করিম ছাত্রজীবনে নাসিরের মিল্লাত নামে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠাতা করে ছাত্রদেরকে সুসংগঠিত করে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড নিজেকে নিয়োজিত করেন। এছাড়াও দ্বীনের দাওয়াতের পাশাপাশি ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্রজীবনে পিতার সাথে নেজামে ইসলাম পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি মাওলানা হাফেজ্জী হুজুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে দেশ বরেণ্য ওলামায়ে মাশায়েখদের কে নিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই সংগঠনের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মওদুদী জামাত ও নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

ইসলামী দল ও সংগঠনের ঐক্যর ব্যাপারে তিনি ছিলেন আন্তরিক। বিএনপি সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্লাটফর্ম সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও নির্বাচনপরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সাথে।

তিনি আরাফাতের ময়দানে এক ভাষণে বর্তমান সম্রাজ্যবাদের রাবার স্ট্যাম্প জাতিসংঘের পরিবর্তে মুসলিম দেশগুলোকে মিলে ইসলামী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলেন। পীর সাহেব তার সমস্ত জীবন ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত করে গেছেন। প্রায় ৩০ বছর যাবত সারাবছর দেশের গ্রামগঞ্জে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত পাকিস্তান নেপাল শ্রীলংকা আফগানিস্তান মায়ানমার ও মালদ্বীপসহ এশিয়ার সকল রাষ্ট্র সফর করেছেন মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পীর সাহেবের অগণিত ভক্ত মুরিদগণ রয়েছেন।