Agaminews
Dr. Neem Hakim

ভূমিপুত্র/ সংখ্যালঘু সুরক্ষা


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৫, ২০২০, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন /
ভূমিপুত্র/ সংখ্যালঘু সুরক্ষা

স্বীকৃতি বিশ্বাস

সংখ্যাগত দিক দিয়ে ম্যালথাসের সূত্র অনুযায়ী গাণিতিক হারে জনসংখ্যা বেড়েছে।কিন্তু মানুষ বাড়েনি!! সত্যি তাই? প্রকৃত মানুষের মত মানুষ বাড়লে হয়তো ধর্মীয় বিবেচনায় চিন্তা না করে মানবিক বিবেচনায় বিবেচনা করা হতো।

আর মানবিক বিবেচনায় কোন কাজ করলে হয়তো ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত মধুখালী থানার বাগাট ইউনিয়নের ঘোপঘাট গ্রামের শ্রীমান তুষার ভাদুড়ী, শ্রীমান মধু ভাদুড়ী এবং শ্রীমান আনন্দ ভাদুড়ী’র বসত বাড়িতে আগুন দিতে গেলে বিবেকটাকে নাড়া দিত।

সুযোগ সন্ধানী দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনের অগ্নিসংযোগের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে চাপা কান্না বুকে নিয়ে অসহায় পরিবার গুলোর রাষ্ট্রের কাছে বিচার প্রার্থনা করতে হতো না। কিন্তু বিচার কি আদৌ পাবে ?ধর্মীয় ও জাতিগত এবং বাংলাদেশের ভূমিপুত্র /সংখ্যালঘুরা আর কত অত্যাচার,অন্যায়, অবিচার, জোর জুলুম,হামলা- মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করবে? এদের বুকফাটা আত্মনাদ দেখে মানুষের মানুষ্যত্ব ও জাতির বিবেক কি জাগ্রত হবে না? উল্লেখিত বাড়ি গুলিতে বসবাসরত মানুষগুলোকে এর আগেও বিভিন্ন সময় মানসিক চাপ দিয়ে বসত ভিঠা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করা হচ্ছিল ছিল।

প্রসঙ্গত, আনন্দ ভাদুড়ী জানান, বিগত কয়েকদিন ধরে তার বাড়ির টিনের চালায় মধ্য রাতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করছিল, টিনের বেড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলেছিল এবং বিগত ২১/১১/২০২০ইং এ সন্ধ্যায় পরিকল্পিত ভাবে বসত বাড়িতে আগুন দেয়। যা সত্যি অমানবিক! পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও মধুখালী থেকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। বসতভিটাসহ ঘরের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিবারগুলোর কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়- ক্ষতি হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিগত ২২/১১/২০ তাং এ মধুখালী থানায় শ্রীমান আনন্দ ভাদুড়ী অভিযোগ দাখিল করেন। ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারগুলো রাস্তায় মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আকুলভাবে আবেদন জানিয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ভাষা জানা নেই! দেশের বিভিন্ন জায়গায় বারবার ভূমিপুত্র/সংখ্যালঘুদের উপর এই ধরনের আক্রমণে সারাদেশের ভূমিপুত্ররা আতঙ্কিত উৎকন্ঠিত এবং তাদের ভিতর চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বার বার ঘটলেও তার কোন প্রতিরোধ মূলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এবং প্রতিকারের জন্য দুষ্কৃতিকারীদের কোন শাস্তিও হয় না।তাই ভূমি পুত্রদের চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভূমি দখলের ন্যাক্কার জনক ঘটনা ভাইরাসের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিচার চাওয়া ও পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি জনগনের নৈতিক অধিকার।আর এ অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের।আর তাই ভূমিপুত্র/ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।