Agaminews
Dr. Neem Hakim

পল্লী চিকিৎসকরা লড়ছেন ফ্রন্ট লাইনে


Khoborer প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২০, ৬:০১ অপরাহ্ন /
পল্লী চিকিৎসকরা লড়ছেন ফ্রন্ট লাইনে

যশোর: করোনা মহামরির এই সময়ে বেনাপোল পৌরসভা তথা গোটা বেনাপোল পোর্ট থানার সকল ইউনিয়ন গ্রামের সাধারন নাগরিক ও জনসাধারন সুচিকিৎসা থেকে বলা চলে এক রকম পুরোপুরি বি ত হচ্ছে। এই মহামারীর সময়ে এই অ লে কোন সরকারি হাসপাতাল যেমন নেই তেমনি সরকারি ভাবে এই অ লে কোভিড-১৯ করোনা পরীক্ষার কোনই ব্যবস্থা নেই। এই চরম দুঃসময়ে এই অ লে করোনাসহ অন্যান্য নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্তদের একমাত্র ভারসা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার এবং পল্লী চিকিৎসকরা।
যখন দেখা গেছে বড় বড় নামকরা ক্লিনিক, হাসপাতাল এর বড় নামকরা ডাক্তাররা করোনার ভয়ে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তখন পাড়া প্রতিবেশী, গ্রামবাসী, এলাকাবাসীদের ছেড়ে এই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকরা কোথাও পালিয়ে যায়নি। বরং তারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার প্রথমদিকের চরম পর্যায়ে রোগীদের পাশে থেকেছেন, এখনো আছেন। করোনা আক্রান্তদের শ^াসকস্টে পৌরসভা থেকে দেওয়া অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে দেয়া হচ্ছে অসংখ্য রোগীদের। এসব ডাক্তারদের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি কোন প্রণোদনা বা সরকারি সহযোগিতা।
জানা গেছে, বেনাপোল পৌর এলাকা তথা বেনাপোল ইউনিয়নভুক্ত গ্রামগুলোতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকগন তাদের সেবামূলক কর্মকান্ডকে আরও বেশী গতিশীল করার জন্য তাদের একমাত্র সংগঠন ‘বেনাপোল ডাক্তার এ্যাসোসিয়েশন’ এর মাধ্যমে আরও সক্রিয় হয়েছেন।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি মরহুম ডাক্তার ইউসুফ আলীর সময়ে যথেষ্ট গতিবিধি ছিলো। এমনকি মরহুম ডাক্তার আমজাদ হোসেনের সময়ও ঘাটতি ছিল না সেবার মান। দুর্ভাগ্যজনক হলো বেনাপোলের এই জনপ্রিয় চিকিৎসক আমজাদ ডাক্তার করোনা মহামারীর সময় বিনা চিকিৎসায় ঢাকায় যেয়ে মৃত্যুবরন করেন।
বেনাপোল ডাক্তার এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ডাক্তার আব্বাস আলী ও সাধারন সম্পাদক ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক। সংগঠনের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৮০ জনের মত চিকিৎসক জনসাধারনের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বেনাপোলের গ্রাম্যডাক্তার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে একজন দরিদ্র গ্রাম্য চিকিৎসক হিসাবে অনেক রোগীকে বিনামুল্যে চিকিৎসা দিয়েছি। নিজের পকেট থেকে ৩০ হাজার টাকার মুল্যের ওষুধ রোগীদের বিনা মুল্যে দিয়েছি। আরো ২০ হাজার টাকা অনুদান যোগাড় করে তাও দরিদ্রদের জন্যে ওষুধ সংগ্রহ করে বিতরণ করেছি।
বেনাপোলের গাজিপুর গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার রুবেল হোসেন  বলেন, করোনার শুরু থেকেই আমি এলাকার দরিদ্র রোগীদের শুধু করোনা নহে, সকল ধরনের রোগের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলস চিকিৎসা দিয়ে আসছি। করোনার মহামারীর এই দুর্যোগময় সময়ে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এক শ্রেনীর উচ্চবর্ণের ব্যবসায়ী চিকিৎসক আমাদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকদের ব্যঙ্গ করে হাতুড়ে ডাক্তার বলেন। এমনকি রোগীদের কেউ কেউ এরকম বিরুপ মন্তব্য করেন যা দুর্ভাগ্যজনক। আজ প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের ভঙ্গুর চিকিৎসা তথা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে সাধারন জনগন তথা দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও পল্লী চিকিৎসকবৃন্দ। তাই আমি দাবি করছি আমাদের দেশে বিশেষ করে এই বেনাপোল অ লে যাতে আরো বেশী দক্ষ পল্লী চিকিৎসক সৃষ্টি করা যায় তার জন্যে অত্র এলাকায় প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্যে আমি অত্র এলাকায় পল্লী চিকিৎসকদের জন্যে একটি প্রশিক্ষন ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি করছি।
আগামীনিউজ/মিথুন