Agaminews
Dr. Neem Hakim

সামুদ্রিক শৈবালের পুষ্টিগুণ


Khoborer প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২০, ৫:০৮ অপরাহ্ন /
সামুদ্রিক শৈবালের পুষ্টিগুণ

ঢাকাঃ সামুদ্রিক শৈবালের পুষ্টিগুণ প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যেকোন উদ্ভিদের চেয়ে বেশী। অধিকাংশ সামুদ্রিক শৈবাল মানুষের উপাদেয় খাদ্য। আয়োডিনের প্রধান উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল যা মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সহায়তা করে। মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিকাশ, শারীরিক ও মানসিক সুষম বৃদ্ধির জন্য সামুদ্রিক শৈবালজাত খাদ্যসামগ্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুষ্টিহীনতা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গলগন্ড, পেটের পীড়া ও ক্যান্সারসহ জটিল রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সামুদ্রিক শৈবালজাত খাদ্যসামগ্রী খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সামুদ্রিক শৈবালে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট, বিটা কেরেটিনযুক্ত ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন সি, ডি, ই এবং কে রয়েছে। সামুদ্রিক শৈবাল মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ কমায়, স্বল্প কোলেস্টরেল বজায় রাখে ও স্ট্রোক প্রতিহত করে। সামুদ্রিক শৈবাল হতে এগার, কেরাজিনান এবং এল্গিনেট উৎপন্ন হয় যা শিল্প কারখানায় এবং ওষুধ শিল্পে মূল্যবান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্বের বহুদেশে এই সামুদ্রিক শৈবাল মানুষের খাদ্যে পুষ্টি বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামুদ্রিক শৈবাল ভালভাবে পরিষ্কার করে তাজা অবস্থায় সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। যে কোন খাদ্যে অন্যান্য উপাদানের সাথে অল্প পরিমাণ হিপনিয়া শৈবাল ব্যবহার করে খাদ্য উপাদানের পুষ্টিমান বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়। সামুদ্রিক শৈবাল সমৃদ্ধ খাদ্যগুলো হলো- সালাদ, সুপ, আচার, পিঠা, চানাচুর, জেলী, সস ইত্যাদী।
চীন, জাপান, কোরিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভারত এই সামুদ্রিক শৈবাল চাষাবাদ ও বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। আমাদের দেশেও এই সামুদ্রিক শৈবাল চাষবাদ ও বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব এবং উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্টির কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আধুনিক পদ্ধতিতে শৈবাল চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
আগামীনিউজ/মিথুন