Agaminews
Dr. Neem Hakim

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ


Khoborer প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২০, ৪:৫৩ অপরাহ্ন /
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

ঢাকাঃ উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থার ব্রত নিয়ে ১৯৭৮ সালে (২৭ অক্টোবর) শহীদ জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপির অন্যতম এই সহযোগী সংগঠনটির আজ মঙ্গলবার (২৭অক্টোম্বর) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ।
গণতন্ত্র, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন ছিল সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। রাজপথের আন্দোলনে যুবদলই ছিল বিএনপির ভ্যানগার্ড। বর্তমান সময়ে নানা কারণে আগের মত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংগঠনটি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের বয়স চার দশক পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত কমিটি হয়েছে মাত্র ৬টি। এর মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে মাত্র তিনটি। বাকিগুলো প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি করা হয়েছে। এ নিয়েও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে। তাদের দাবি, যুবদলের আগামী কমিটি সম্মেলনে ভোটাভুটির মাধ্যমে যেন করা হয়।
যুবদল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

যুবদলের দ্বিতীয় কমিটি হয় ১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ। কাউন্সিলের মাধ্যমে ওই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সেনাশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আব্বাস-গয়েশ্বর কমিটি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়। তখন তারা রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
এরই ধারাবাহিকতায় পরের কমিটিতেও তারা নেতৃত্বে আসেন। ১৯৯৩ সালের (০৮ অক্টোবর) কাউন্সিলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই দুজন আবার যুবদলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আব্বাস-গয়েশ্বর বিএনপির রাজনীতিতে চলে গেলে ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব আসে। বরকতউল্লাহ বুলুকে সভাপতি ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সাধারণ সম্পাদক এবং খায়রুল কবির খোকনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে হাইভোল্টেজ কমিটি করা হয় যুবদলের। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গঠিত এই কমিটি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। সারা দেশে যুবদলকে উজ্জ্বীবিত করতে সক্ষম হয়।
এর পর ২০১০ সালের ১ মার্চ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরবকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গঠনের পর যুবদলের নেতৃত্বের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। অভিমান করে যুবদলের রাজনীতি থেকে বারবার ইস্তফা দেয়ার কথা বলেন আলাল। ক্ষমতাসীন দলের হামলা মামলায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন নীরব। পরে আলাল বিএনপির রাজনীতিতে চলে আসেন। সবশেষ বিএনপির কাউন্সিলে তাকে করা হয় দলের যুগ্ম মহাসচিব। এর পর যুবদল দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদ করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুপার ফাইভ কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয় মোরতাজুল করিম বাদরুকে, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল ইসলাম নয়ন আর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মামুন হাসানকে। এ বছরের ৬  ফেব্রুয়ারি যুবদলের ১১৪ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
যুবদলের প্রথম আহ্বায়ক আবুল কাশেম এখন বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতিতে নেই। আর প্রথম সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান যুবদলে থাকার সময়ই জাতীয় পার্টিতে চলে যান। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আছেন। তাদের পরবর্তী কমিটির সভাপতি বরকতউল্লাহ বুলু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আর সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন এখন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।