Agaminews
Dr. Neem Hakim

যানজটের রাজধানী ঢাকা, সঙ্কট নিরসনে আসছে মেট্রোরেল


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২০, ২০২০, ১:৩২ অপরাহ্ন /
যানজটের রাজধানী ঢাকা, সঙ্কট নিরসনে আসছে মেট্রোরেল

বিশেষ প্রতিবেদন, ইমন ইসলাম

যানজট সমস্যা হলো বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা। বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর গুলোতে যানজট সমস্যা বেশ প্রকট। বর্তমানে যানজট সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি নিত্যনৈমেত্তিক ব্যাপার। রাজধানী ঢাকা শহরে যানজটের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রাজধানী ঢাকা শহরে প্রায় ২ কোটি লোকের বাস। রাজধানী ঢাকা শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৪ হাজার লোকের বাস। জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত। রাজধানী ঢাকা শহরে যানজট সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ।

ঢাকা বাংলাদেশের একমাত্র প্রশাসনিক নগর হওয়ায় সব ধরনের বড় বড় অফিস- আদালত, স্কুল কলেজ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে উঠেছে।ঢাকা মহানগরী কর্ম ক্ষেত্রের একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবেও পরিচিত।যার কারণে প্রতিদিন মানুষ কাজের খোঁজে রাজধানী ঢাকা শহরে ভির জমাচ্ছে।মাএ ৩০৬ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্ট শহরে বিশাল জনসংখ্যার চাপ যানজট সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।

তাই রাজধানী ঢাকাকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। এখানে বসবাসরত ৭০% শতাংশ মানুষই প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে আসা।এই সকল মানুষজন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বস্তিতে বাস করে।এদের অধিকাংশই শহরের বিভিন্ন স্থানে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। রাজধানী ঢাকা শহরে যাতায়াতের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো রিক্সা ও অটোরিকশা। রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ লক্ষাধিক রিক্সা চলাচল করে থাকে।এই অত্যাধিক রিক্সা চালনা যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। রাজধানী ঢাকা শহরে যাতায়াতের আর একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হল মিনি বাস। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত বাস সার্ভিস ছাড়াও বেসরকারি অসংখ্য বাস সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে রাজধানী ঢাকা শহরে প্রায় ৪০০ কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের বাস সার্ভিস চালু আছে।যার প্রভাবে প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়ছে সাধারণ নাগরিকরা।

যানজট হলো যানবাহনের দীর্ঘ সারি,যাতে করে অসংখ্য যানবাহন জ্যামে আটকে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে। যানজট সমস্যা হলো শহর জীবনের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা।যানজট সমস্যা অনেক গুলো কারণে সংগঠিত হয়ে থাকে।যে কারণ গুলোর মধ্যে মানবসৃষ্ট কারণ অন্যতম।অধিক সংখ্যক যানবাহনের তুলনায় রাস্তার সংকীর্ণতা যানজটের অন্যতম একটি কারণ।যে হারে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই হারে রাস্তার সংখ্যা বাড়ছে না।যার ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।গাড়ি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অপর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী।অপরিমিত নগরায়ন,যত্রতত্র দালানকোঠা নির্মান,সড়ক পথে দূর্ণীতি যানজট সৃষ্টি বৃদ্ধি করেছে। প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের অতি মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে না, কর্মজীবীরা সঠিক সময়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে পারে না। যানজটের কারণে বিভিন্ন সরকারি জরুরী সার্ভিস তাদের সেবা প্রদানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথে যানজট সমস্যা অন্যতম একটি বাধা।যে সমস্যা সমাধানের কোন রাষ্ট্রীয় আইন প্রযোজ্য নয়। একমাত্র জনসচেতনতাই পারে যানজট সমস্যার সমাধান করতে।

বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো পরিবহন খাত। বাস সার্ভিস হলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। রাজধানী ঢাকা শহর থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর ও জেলা গুলোতে শত শত বাস সার্ভিস পরিচালিত হয়ে থাকে। অথচ যানজট সমস্যার কারণে যোগাযোগের এই জনপ্রিয় মাধ্যমটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।যা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথে অন্যতম একটি বাধা।

রাজধানী ঢাকা শহরের খাদ্যে চাহিদা পূরণে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে খাদ্যে শস্যে ভারি যানবাহনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অথচ যানজট সমস্যার কারণে যথা সময়ে খাদ্যে শস্যে শহরে পৌঁছাতে পাড়ছে না।যার ফলে টাটকা শবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শহরে খাদ্যে শস্যের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।আর এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা বিঘ্নের সৃষ্টি করছে।

যানজট সমস্যার কারণে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নেতিবাচক রুপে দেখা হয়।

বাংলাদেশ হলো একটি উন্নয়নশীল দেশ।যে কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সাহায্য রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ যানজট সমস্যার জন্য উন্নত দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তাই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করতে যানজট নিরসন একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রথম দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকার ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কিছুটা হলেও যানজট সমস্যার সমাধান আসবে।

মেট্রোরেল নগরজীবনকে করবে আরো গতিময়।ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ডিএমআরটিডিপি) বা মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত, ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। এই প্রকল্পে ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকবে ৬টি করে কার। ঘণ্টায় ১’শ কিলোমিটার বেগে ছুটবে যাত্রী নিয়ে। উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন বহনে সক্ষমতা থাকবে মেট্রোরেলের।

প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটারে ৯টি স্টেশন থাকবে। এগুলো হচ্ছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াও আগারগাঁও। আর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাকি ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটারে স্টেশন থাকবে ৭টি। এগুলো হলো- বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব এবং মতিঝিলে (বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে)। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবন যাপনকে স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে মেট্রোরেল অভাবনীয় সাফল্যে বয়ে আনবে।

লেখক: শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।