Agaminews
Dr. Neem Hakim

আমার বাবা-শাহাদাত হোসেন সেলিম


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৮, ২০২০, ১০:০৮ অপরাহ্ন /
আমার বাবা-শাহাদাত হোসেন সেলিম

শাহাদাত হোসেন সেলিম


বাবাকে নিয়ে যখনই কিছু লিখতে যাই তখনই আমার হাত অবশ হয়ে যায়।শত চেষ্টা করলেও লিখতে পারি না।মনে হয় বাবা কে নিয়ে কোন কিছু লিখার যোগ্যতা আমার নেই।কখনো ছিলো না।আগামী তে ও হবে না।ত জনমদুখি বাবার ঘরে আমার বাবার জন্ম।আমার দাদা জন্মের ৯ দিনের মাথায় তার পিতাকে হারায়।দূখী মা তার কোলের সন্তান কে নিয়ে পিতার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়।

নানার বাড়ীতে বড় হয় আামার দাদা।দাদার ৬ ছেলে এক মেয়ে।আমার দাদী ছিলো সম্রান্ত পরিবারের আমার বাবা তার ৩য় সন্তান। বৃটিশ আমলে কি ভয়াবহ অভাব আর অনটন ছিল তা আজ কল্পনা করতে ও শিউরে উঠতে হয়।সে সময় শিক্ষার হার ছিলো অতি নগন্য।আমাদের অঞ্চল ছিলো হিন্দু প্রধান।জীবিকা ছিল কৃষি শ্রম।আমার বাবার অদম্য আগ্রহ ছিলো শিক্ষা গ্রহনের।নিত্য অনটনের মাঝে ২য় শ্রেনী থেকে আমার বাবা স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই শুরু করেন।

ছোট্ট শিশুর এক অসম লড়াই।গ্রামের সাপ্তাহিক হাট গুলো তে তিনি পুরাতন বই বিক্রি করতেন।প্রাইমারী পাস করে তিনি পরের বাড়ীতে জায়গীর(লজিং) থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি বাজারে বই বিক্রি করে সংসারের সাহায্য করতেন।আমার বাবা ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী।ইংরেজিতে ছিলেন অতি পটু।এন্ট্রেন্স পাস করে তিনি বাধ্য হয়ে লিখা পড়ায় ইস্তফা দিয়ে কোলকাতায় যান।কারন তার মাথায় অনটনের সংসারের বিশাল দায়িত্ব।সে দায়িত্ব সুনিপুণ ভাবে পালন করে ও তিনি চাকুরির সাথে সাথে বিএ ও পাস করেন।তিনি গর্ব করে নিজকে দাবী করতেন দেশের প্রথম শ্রেনীর নাগরিক হিসাবে।দুঃখ করতেন ছাত্রজীবনে পেট ভরে ভাত পেলে জীবনে অনেক দুর যেতে পারতেন। কোলকাতায় তিনি রেলে চাকরি করতেন।

তার চাকরির সুবাদে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আসে।পুরো সংসার কে তিনি টেনে তুলেন এক অনন্য উচ্ছতায়।৪৭ এর পর তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ের এসআরবি ষ্টেশন মাষ্টার ছিলেন।৫২ সালে তিনি পাকিস্হান আন্দোলনের মহা নায়ক হজরত গোলাম সরওয়ার হোসাইনীর মোকতেয়ারী(ঘটকালী) তে বিয়ে করেন এক অতি সম্রান্ত পরিবারে।৬২ সালে রেল পোর্ট ভাগ হলে তিনি পোর্টে যোগদান করেন।৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্ব পক্ষে থেকে হানাদার বাহিনীর অধীনে চাকুরী করা থেকে বিরত ছিলেন।

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি তার প্রাপ্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।৮৩ সালে তিনি বন্দরের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা হিসাবে অবসর গ্রহন করেন। আজ আমার বাবার ২৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী।বড্ড অসময়ে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন পরপারে।কিন্তু একটি মুহুর্তের জন্য ও মনে হয় না তিনি নেই।প্রতি ক্ষনে,প্রতি নিঃস্বাসে মনে হয় তিনি আছেন আমার সাথে আমার পাসে।

দোয়া করছেন মন প্রান দিয়ে আমার সাফল্যের জন্য। আমরা তার ১২ সন্তান আজ ফুলে ফলে স্বমহিমায় সুভাষিত।আমরা মনে করি আমাদের বাবা আমাদের বেহেশত,আমাদের বাবা আমাদের বিশ্বাস,নিঃস্বাস, আমাদের পিতা আমাদের চোখের আলো,আমাদের হৃৎস্পন্দন।আপনারা আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন আমাদের পিতা যেন বেহেশতের অতিথি হন।আমিন।