Agaminews
Dr. Neem Hakim

সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ,কবে মিলবে এর প্রতিকার


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৮, ২০২০, ১:৫২ অপরাহ্ন /
সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ,কবে মিলবে এর প্রতিকার

ইমন ইসলাম, জাবি প্রতিনিধি

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে বাংলাদেশের একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিন হুরহুর করে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা।সড়ক দুর্ঘটনার বলি হয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।কত মূল্যবান সম্পদ চলে যাচ্ছে এই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার হাত থেকে যেন মুক্তি মিলছেই না।

বাংলাদেশে প্রতিদিন ৭০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন।প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।নিসচার তথ্য অনুযায়ী, ২০‌১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৭০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২২৭ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩ হাজার ৩৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন।সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাটা হয়তো এর চেয়েও বিশাল । প্রকৃতপক্ষে দেশে গঠিত সকল দুর্ঘটনা পুলিশের ডায়েরিতে লেখা হয় না এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না ,যার কারণে প্রাণহানির মূল সংখ্যাটা জানা যায় না। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।যার দরুন বিশাল খাদ্যে ঘাটতির যোগান দিতে প্রতিনিয়ত মহাসড়কগুলোতে ভারি যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে,এর কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অশিক্ষিত ও অদক্ষ গাড়ি চালক,যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ঝুঁকিপূর্ণ বাক,ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা,ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, আঁকাবাঁকা সড়ক পথ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন,ট্রাফিক রুলস অমান্য, একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা,পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকা, স্বজনপ্রীতি, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা, ট্রাফিক আইন অমান্য, প্রশাসনিক অবহেলাসহ সর্বোপরি গাড়ি চালক ও যাত্রীদের অসচেতনতাই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ।

ফিটনেস বিহীন যানবাহন এবং অশিক্ষিত ও অদক্ষ গাড়ি চালক হলো বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান দুইটি কারণ । দেশের সকল সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই সব ফিটনেস বিহীন যানবাহন গুলো।যার প্রভাবে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে হতাহতের তালিকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (BRTA) এর হিসেব মতে ,দেশে প্রায় ৫ লক্ষাধিক ফিটনেস বিহীন যানবাহন রয়েছে।

অশিক্ষিত ও অদক্ষ গাড়ি চালকদের গাড়ি চালানোর সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় ,তারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় দিনদিন সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ। প্রতিটি সড়কে-মহাসড়কে নিরাপদ যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করাই ট্রাফিক পুলিশের অন্যতম কাজ ।অথচ যে ট্রাফিক পুলিশের হাতে পুরো যানবাহনের নিরাপত্তার ভাড় অর্পিত ,আজ সেই ট্রাফিক পুলিশের কাজে অবহেলা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার পিছনে অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশে যোগাযোগের জন্য তিনটি পথ রয়েছে।সড়কপথ , নৌপথ, রেলপথ।তবে যোগাযোগ ক্ষেত্রে একমাত্র সড়ক পথকেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।এই একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনেই সড়ক পথে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।যা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটানোর জন্য দায়ী।

সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার পিছনে আর একটি অন্যতম কারণ হলো প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ।ক্ষমতার বলে অনেক প্রশাসনিক বড় বড় কর্তারা ট্রাফিক রুলস অমান্য করে বেপড়োয়াভাবে গাড়ি চালানোয় সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর ফলে সড়ক-মহাসড়কে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানযট সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারন।

বাংলাদেশের প্রতিটি সমাজই পুরুষতান্ত্রিক হওয়ায় পুরুষ পুরুষই পরিবারের প্রধান কর্মক্ষম ব্যক্তি হয়ে থাকে।সড়ক দুর্ঘটনায় যখন কোন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির মৃত্যু ঘটে তখন ওই পরিবারটি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।যা ওই পরিবারগুলোতে অভাব অনটনের জম্ম দেয়। প্রতিবছর এরকম শতশত পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।যা একটি কর্মক্ষম জাতি গঠনের পথে অন্যতম একটি প্রধান বাধা।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি

সামাজিক রোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর হাত থেকে যেন মুক্তি মিলছেই না।

বিভিন্ন পন্ডিত মহল ও গবেষকদের দাবি গাড়ি চালক থেকে শুরু করে যাত্রীদের সর্বোপরি দেশের সকল মানুষকে ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পাড়লেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন সঠিক ভাবে নিশ্চিত করা গেলেই সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ফিটনেস বিহীন এবং লাইসেন্স বিহীন গাড়ি জব্দ সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অন্যতম কৌশল হতে পারে।গাড়ি চালকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। সর্বোপরি ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার আকার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ব্যবস্থায় একমুখী প্রবণতা কমিয়ে , নৌপথে ও রেলপথ যোগাযোগের প্রশস্ততা বাড়াতে হবে। তাহলে সড়ক -মহাসড়কের উপর যানচলাচলের চাপ কমাতে সাহায্য করবে। ফলশ্রুতিতে সড়ক দুর্ঘটনা কম ঘটবে। বাংলাদেশের প্রতিটি সংকুচিত সড়ক-মহাসড়কের প্রশারণ ঘটানো আবশ্যক ।প্রতিটি মহাসড়ক এক লেন থেকে বৃদ্ধি করে একাধিক লেনে উন্নীত করা গেলে সড়ক-মহাসড়কের যানজট কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে ।এতে করে মহাসড়কে আর যানজটের সৃষ্টি হবে না।

জনগণ হলো একটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি।যে জনগনের কর্মশক্তির জোড়ে একটি রাষ্ট্র উন্নয়নের পথে ধাবিত হয়।তাই দেশের কর্মক্ষম জনশক্তির অকাল মৃত্যু ঠেকাতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ একান্তই আবশ্যক।