Agaminews
Dr. Neem Hakim

অনলাইন শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৭, ২০২০, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন /
অনলাইন শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

ইমন ইসলাম,জাবি প্রতিনিধি

অনলাইন শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে অন্যতম একটি মাধ্যম। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশে অনলাইন শিক্ষা প্রবর্তন সত্যি অভাবনীয় একটি সাফল্যের অর্জন। বাংলাদেশ সরকার দেশকে ভিজিটার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষায় অনলাইন মাধ্যমে পাঠদান করানো হচ্ছে। 

অনলাইন শিক্ষা কি? অনলাইন শিক্ষা হলো একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষা গ্রহণ করাকেই অনলাইন শিক্ষা বলে। অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসে উপস্থিত হতে হয় না। শিক্ষার্থীরা সহজেই যে কোন প্রান্ত থেকেই ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। অনলাইন শিক্ষার প্রাণ হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া অনলাইন ক্লাস সম্ভব নয়।তাই অনলাইন শিক্ষায় ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইন শিক্ষায় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো দূর্বল নেটওয়ার্ক ও নেট কানেকশন।যা অনলাইন শিক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি‌ করে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বসবাস প্রান্তিক জেলাগুলোতে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকাগুলোতেই ইন্টারনেট সমস্যার আকার বেশ প্রকট। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে বসবাস করেও এসব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।যা মোটেই একটি রাষ্ট্রের জন্য সুখকর নয়। ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম সাবমেরিন কেবল ‘সি-মি-উই-৪’ এ যুক্ত হয়। এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন কেবল থেকে সেকেন্ডে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ব্যান্ডউইথ পায় বাংলাদেশ।

করোনা ভাইরাসের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এবছরের মার্চ মাস থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ রেখেছে সরকার। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেন কোন ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য সরকার গত জুলাই মাস থেকে অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের ৮০% শতাংশ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করার মতো সক্ষমতা নেই।যার মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করার মতো উপযুক্ত ডিভাইস নেই। বর্তমান মাএ ১০% শিক্ষার্থী অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে এবং বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনলাইন পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।যা মোটেই একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে কাম্য নয়।

যার ফলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। অনলাইন শিক্ষায় আরো একটি প্রতিবন্ধকতা হলো ব্যয়বহুল ইন্টারনেট প্যাকেজ। বাংলাদেশের ৮৫%শতাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।যার অধিকাংশই দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত।এই সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব না ব্যয়বহুল ইন্টারনেট প্যাকেজ ক্রয় করে অনলাইন ক্লাস করা।যে কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। অনলাইন শিক্ষায় অনভিজ্ঞতা আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ। শিক্ষার্থীদের স্বল্প মূল্যে ডিভাইস ও ইন্টারনেট প্যাকেজ সরবরাহ করা গেলে হয়তো শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করা যেতে পারে।

তাই অনলাইন শিক্ষায় উল্লেখিত সমস্যা গুলোর সমাধান করা গেলে হয়তো শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের প্রতি ধাবিত হবে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই অনলাইন শিক্ষায় অভ্যস্ত নয়। এখানকার শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে উপস্থিত হয়ে পাঠ গ্রহণ করে অভ্যস্ত।যে কারণে অফলাইনে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা যে টুকু উৎসাহ-উদ্দিপনা পেয়ে থাকে অনলাইন ক্লাসে সেই উৎসাহ-উদ্দিপনা পাচ্ছে না।যে কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন ক্লাসের প্রতি একধরনের অনিহা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশের সিংহ ভাগ শিক্ষকই অনলাইনে ক্লাস নিতে অভ্যস্ত নয় এবং অনলাইন ক্লাসের বিসয়ে অনেকটাই অনভিজ্ঞ। শিক্ষকদের একটা বিশাল অংশ অনলাইনে ক্লাস নিতে ইতস্তত বোধ করে থাকে।সব মিলিয়ে একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।এই সমস্যা গুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপিঠ খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গত জুলাই মাস থেকে অনলাইন ক্লাস একযোগে শুরু হয়েছে।তবে বেশীরভাগ শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ডিভাইস ও উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট প্যাকেজের সামর্থ্য না থাকায় অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না।যা উচ্চ শিক্ষার গ্রহনে অন্যতম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে।

অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করা না গেলে উচ্চ শিক্ষায় একটি বিশাল ঘাটতি রয়েই যাবে। বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের দাবি নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানসহ প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প মূল্যের ডিভাইস এবং স্বল্প মূল্যের ডাটা প্যাকেজের ব্যবস্থা করা গেলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা যেমন অনলাইন ক্লাসের প্রতি আগ্রহী হবে, সেই সাথে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভৃত্তি আরো শক্তিশালী হবে। যা একটি শক্তিশালী শিক্ষিত জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।