Agaminews
Dr. Neem Hakim

সাকিবের পুঁজা উদ্ভোধন; দাঈসুলভ ভাবনা- শাইখ ফজলুল করীম মারুফ


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৪, ২০২০, ১১:১২ অপরাহ্ন /
সাকিবের পুঁজা উদ্ভোধন; দাঈসুলভ ভাবনা- শাইখ ফজলুল করীম মারুফ

শাইখ ফজলুল করীম মারুফ

সাকিব আল হাসান কতৃক কালী পুঁজা উদ্ভোধনের আরো কিছু দিক আছে।

আয়োজক হিন্দুদের ধর্মীয় মর্যাদাবোধ না থাকার একটা প্রমাণ এটা। একজন মুসলমানকে দিয়ে পুঁজো উদ্ভোধন করানো হীনমণ্যতার লক্ষণ।

হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রেরও দুর্বলতা এটা। একজন মুসলিম পুঁজা উদ্ভোধন করলে সেটা শাস্ত্রীয় হয় কি করে?
বাঙ্গালী মুসলিম ও বাঙ্গালী হিন্দুদের সামাজিক মর্যাদাগত অবস্থার পালাবদলের চিহ্ন এটা। বাঙ্গালী মুসলমানের অবস্থা আবারো উঁচুতে ফিরে গেছে। তারই ফলে বাঙ্গালী হিন্দু আগ্রহভরে প্রাক্তন “জবন” দিয়ে পুঁজো উদ্ভোধন করায়।
হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধ লোপ পেয়েছে। ফলে অন্য ধর্মের লোক দিয়ে পুঁজো উদ্ভোধন করায়।
একই সাথে এটা সাকিব আল হাসানের অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তার একটা নির্দশন।
এখন একজন মুসলিম দাঈ হিসেবে আপনার করণীয় কি?
সাকিব আল হাসানের নাম বিকৃত করা? এটা করলে আপনি নাম বিকৃত করার গুনাহে গুনাহগার হবেন।
সাকিব আল হাসানকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিবেন? কাউকে খারিজ মিনাল ইসলাম করার “কাজায়ান” ও ” দিয়ানাতান” দুইটা দিক আছে। এই দুইটার কোনটার ইখতেয়ারই আপনি রাখেন না।
তাকে তাকফির করবেন? তাকফিরে আহলে শাহাদাতাইন সম্পর্কে পড়েছেন কিছু?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, নাম বিকৃতি, তাকে তাকফির করা বা তাকে ইসলাম থেকে খারিজ করে আপনি কি অর্জন করতে চান?
দাঈ হিসেবে এর মাধ্যমে আপনি কি পেতে চান?
বরং আপনি যদি দাঈ হন তাহলে এখান থেকে দাওয়াতের সুযোগ খুজবেন আপনি। সাকিব আল হাসানের এই জনপ্রিয়তাকে আপনি কাজে লাগাবেন, হিন্দু ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধের অভাবকে আপনি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করবেন। বাঙ্গালী মুসলিমের এই আর্থ সামাজিক পরিবর্তনকে আপনি ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করবেন।
দেখেন! পাকিস্তানের দাঈগন এটা করেছেন। তারা পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকাদেরকে, শোবিজ তারকাদের জনপ্রিয়তাকে দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করতে তাদের পেছনে সময় দিয়েছে। কৌশলের সাথে তাদেরকে দাঈ বানিয়ে ফেলেছে। ফলে পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রায় সব তারকাই আমলী জীবন যাপন করেন এবং তাদের জনপ্রিয়তাকে দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেন।
কিন্তু বাংলাদেশে? এখনো পর্যন্ত আমরা এই কাজটা করতে পারি নাই। অথচ সুফিবাদ প্রভাবিত #বাঙ্গালীয়ানাইসলামপন্থার কর্মপন্থা তো এটাই হওয়া উচিৎ ছিলো।
তা না করে সবাই কেমন যেনো কেউ কোন ভুল করলেই খারেজি চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে তাকে ইসলাম থেকে খারিজ করার জন্য উম্মাদ হয়ে উঠি।
এদের দেখে মনে হয় যেনো এরা “দারোগা” হয়ে পৃথিবীতে এসেছে। যাদের কাজ হলো মানুষের দোষ খুজে খুজে জাহান্নামে পাঠানো।
অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন রাহমাতুল্লিল আলামিন হয়ে।
তাই বলবো, সাকিব আল হাসানকে গালাগালি বন্ধ করুন। শুধু সাকিব বলে নয় বরং কারো ভুলের জন্য গালাগালি করা বন্ধ করুন। বরং দাঈ-এর ব্যথা নিয়ে ব্যক্তিকে (সাকিব আল হাসানকে) সংশোধন করার উদ্দোগ নিন।
সাকিবকে তার ধর্মীয় কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত করুন। তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তার জনপ্রিয়তাকে ইসলামের স্বার্থে ব্যবহার করতে তাকে দাঈ হিসেবে গড়ে তুলুন।
লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত