Agaminews
Dr. Neem Hakim

জো বাইডেনের বিজয় ও তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যত – সরোয়ার আলম


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৪, ২০২০, ৩:৩১ অপরাহ্ন /
জো বাইডেনের বিজয় ও তুর্কি-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যত – সরোয়ার আলম

সরোয়ার আলম, চীফ রিপোর্টার এবং আঞ্চলিক প্রধান, আনাদোলু এজেন্সি

মার্কিন মুলুকের নির্বাচন নিয়ে তুরস্কের গনমাধ্যমের খবর, সম্প্রচার ও টকশোগুলো দেখলে মনে হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প হেরে যাওয়ায় তার সমর্থকদের চেয়ে তুর্কিরাই বেশি কষ্ট পেয়েছে।

তুরস্কের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে ট্রাম্প হেরে যাওয়ায় আমেরিকার নতুন সরকার তুরস্কের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সর্ব শক্তি দিয়ে আক্রমণ চালাবে। তাদের মতে, জো বাইডেন শাসিত আমেরিকা  আগামী বছরগুলোতে তুরস্কে আরো বেশি বিশৃঙ্খলা এমনকি সরকার বিরোধী আন্দোলনও ফুঁসলিয়ে দিতে পারে।

তাদের কথায় যুক্তি আছে। কারণ, এ বছরের শুরুর দিকে বাইডেন নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের সাথে এক কথোপকথনে তুরস্কের সরকার পরিবর্তনের জন্য আমেরিকার “সব ধরণের পন্থা” অবলম্বন করার পরামর্শ দেন।

তবে আমি এই দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে  চাই।

ওবামার সময় তুরস্ক-আমেরিকার সম্পর্ক।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় থেকেই দেশটির সাথে তুরস্কের খারাপ সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু হয়।

তুরস্কে ২০১৬ সালের রক্তক্ষয়ী ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এ সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তুরস্ক, আমেরিকা প্রবাসী ফেতুল্লা গুলেনকে অভ্যুত্থানের প্রধান সমন্বয়কারী সাব্যস্ত করে ওবামা প্রশাসনের কাছে তাকে ফেরত পাঠানোর লিগ্যাল নোটিশ দেয়। কিন্তু ওয়াশিংটন তাকে ফেরত পাঠানো তো দূরের কথা তার সাঙ্গপাঙ্গদের আমেরিকায় ঢোকা ও থাকার পথ সহজ করে দেয়।

সিরিয়া ইস্যুতেও আঙ্কারা এবং ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য ওবামার সময়কালেই দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।

তুরস্কের, রাশিয়ায় নির্মিত এস-৪00 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়েও ওয়াশিংটনের সাথে দ্বন্দ্ব শুরু হয় ওবামার আমল থেকেই।

তার শাসনামলেই তুরস্ক দেশের ভিতরে এবং বাইরে আমেরিকার স্বার্থ বিরোধী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। যেমন, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা ইত্যাদি।

তখন থেকেই ওয়াশিংটনে তুরস্ক বিরোধী আওয়াজ বুলন্দ হতে থাকে। ডেমোক্রাট এবং রিপাবলিকান দুইও দল থেকেই সিনেটররা একত্রে তুরস্কের বিরুদ্ধে আইন পাসের প্রস্তাব করেন কংগ্রেসে।

সেই যে শুরু,  ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরও এই ধারা অব্যাহত ছিল।

বছর দুই আগে তিনি তুরস্কের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন টুইটারে। তখন এক সপ্তাহে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছিল তুরস্কের। তিনি লাগামহীন কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কথাবার্তা এবং আচরণের মাধ্যমে কখনও তুরস্কের সরকার প্রধানকে যাচ্ছেতাই ভাবে হেস্তনেস্ত করেছেন। কখনওবা ভূয়সি প্রশংসা করেছেন। মোট কথা ট্রাম্প ছিলেন আনপ্রেডিক্টেবল। তবে এরদোয়ান জানতেন তার সাথে কিভাবে খেলতে হয়। এবং তুরস্কের লিডার খেলেছেনও সেভাবেই।

এ কারণেই ট্রাম্প তার সময় পেন্টাগন এবং মার্কিন কংগ্রেসের অনেকগুলো তুরস্ক বিরোধী পদক্ষেপ রূখে দিয়েছিলেন।

এখন বাইডেন ক্ষমতায় আসায় পূরাতন নথিপত্র নতুন করে সামনে আসবে।

এস-৪০০ এবং রাশিয়া

রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের উপর  অবরোধ -নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলাপ আলোচনা চলছে অনেকদিন ধরেই।

সরোয়ার আলম, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও চীফ রিপোর্টার এবং আঞ্চলিক প্রধান, আনাদোলু এজেন্সি, আঙ্কারা, তুরস্ক থেকে।