Agaminews
Dr. Neem Hakim

উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৮ প্রশাসনের কর্মকর্তার অভিযোগ 


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৩, ২০২০, ৫:০৫ অপরাহ্ন /
উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৮ প্রশাসনের কর্মকর্তার অভিযোগ 

স্টাফ রিপোর্টার

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা চেয়ারম্যান ওই উপজেলার ইউএনওকে গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকীর ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউএনওসহ ১৮জন কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার রাতে গণস্বাক্ষরীত অভিযোগটি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

সুত্র মতে, ওই উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের ভাগাভাগি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসের সাথে ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন দ্ব দ্ব চলে আসছে। সম্প্রতি এডিপি ও আশ্রয়ন প্রকল্প’র ভাগাভাগি নিয়ে দ্ব›েদ্ব নতুন মাত্রা পায়। বৃহস্পতিবার মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকা তৈরী নিয়ে সেই দ্ব›দ্ব প্রকাশ্য রুপ ধারণ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওকে গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকী দেন।

ওই অভিযোগ দাবী করা হয়েছে, আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিধিবিধান ও নীতিমালা লংঘন করে কাজের জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এর ব্যর্তয় ঘটলে সেই দফতরের কর্মকর্তাকে গালমন্দসহ প্রাণনাশের হুমকী দেন চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকান্ড, ভিজিডি, মাতৃত্বভাতা, কৃষি প্রনোদনা, সামাজিক নিরাপত্ত বেষ্টনীর সুবিধাভোগির তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন চেয়ারম্যান। বিধি বহির্ভুত ভাবে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ না দেয়ায় এবং প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না হতেই বিল পরিশোধ না করায় সাস্প্রতিক সময় উপজেলা প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে রুমে বেঁধে পেটানোর হুমকী দেন চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয়, তার কথামত কাজ না করায় একজন মহিলা কর্মকর্তাকে বহিরাগতদের দিয়ে মানহানীর ঘটনা ঘটানোর হুমকী দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সকল দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা তুলে ধরা হয় অভিযোগে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বৃহস্পতিবার মাসিক সমন্বয় সভায় ভিজিডি ও মাতৃত্ব ভাতার তালিকায় নিজের অংশ দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। যা বিধি সম্মত না হওয়ায় ইউএনও নাকোচ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভা অসমাপ্ত রেখে চলে যান চেয়ারম্যান। এরপর চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা লোক মার্ফতে খুলতে গেলে তার ছবি তুলেন ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। একই সাথে ক্যামেরা খুলে ফেলার কারন জানতে চাইলে ইউএনওকে গালমন্দ করেন। বলা হয় “বেশি কথা বললে পিটিয়ে নরসিংদী পাঠিয়ে দিবো। উপজেলা পরিষদ কি তোর বাবার সম্পত্তি, উপজেলা পরিষদ কি তুই চালাবি?”। এভাবে গালমন্দ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চরম উত্তেজিত হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোবাইলে ফোনে তার দলের লোকদের ডাকলে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্ঠি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। ঘটনার পর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ইউএনওসহ উপজেলার সকল দফতরের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। একই দিনগত রাতে ইউএনওসহ উপজেলার ১৮জন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক বরাবরে এ সংক্রান্ত গণস্বাক্ষরীত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার স্মারক নং – ০৫.৪৭.৫২০২.০০০.০২.০৮৩.২০- ৭৬৪। এর অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য সমাজকল্যানমন্ত্রী ও রংপুর বিভাগিয় কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে উপজেলা পরিষদ আইনের লঙ্ঘন করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, আমরা সকল দফতরের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলেও আমরা বিশ্বাস রাখি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনস্বার্থে গত অর্থ বছরের সকল দফরের কাজের অগ্রগতি জানতে চাওয়ায় অফিসাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনও নিজেই বিধি বহির্ভুতভাবে ঠিকাদারের নামে নিয়ে এডিপি ও আশ্রয়ন প্রকল্প ২ এর কাজ করছেন। স্থানীয় ভাটা মালিকদের চাপ দিয়ে ইট নিয়ে এসে উপজেলা পরিষদে রেখেছেন তার ঠিকাদারী কাজের নির্মান সামগ্রী। তদারকী কর্মকর্তা হয়ে নিজে কাজ করার বিষয়টির প্রতিবাদ করায় ইউএনও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। তবে এসব বিষয়ের সুষ্ঠ তদন্ত করার জোর দাবি তার।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন সাংবাদিকদের বলে ও অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ সচিবকে (ডিডিএলজি) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।