Agaminews
Dr. Neem Hakim

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জাবি ক্যাম্পাস


আবদুল্লাহ আল হাদী প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১২, ২০২০, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন /
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জাবি ক্যাম্পাস

­ইমন ইসলাম,জাবি প্রতিনিধি : 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি খ্যাত আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত জাবি ক্যাম্পাসে রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে অসংখ্য লেক, গাছপালা।যা পাখিদের থাকার জন্য উপযুক্ত।

আমাদের জাবি ক্যাম্পাস পাখিদের অভয়াশ্রম হিসেবেও পরিচিত। বছরের এই সময়টাতে প্রচন্ড শীত পড়ায় , শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে পাখি গুলো সূদুর সাইবেরিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের জাবি ক্যাম্পাসে ঘাটি গেড়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পাখির অভয়ারণ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষনা করেছে সরকার।
শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার অতিথি পাখির কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো।

লাল শাপলায় পূর্ণ এসব লেকে এখন তাদের দিন কাটছে জলকেলি আর ওড়াউড়িতে।ক্যাম্পাসের গাছপালায় ঢাকা সবুজ প্রকৃতি আর পাখির খাদ্য ও বসবাস উপযোগী জলাশয়গুলোও যেন বরণ করে নেয় অতিথি পাখিদের। তাই শীতকালে তারা এই জলাশয়গুলোকেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে অতিথি পাখি আসলেও এবছর একটু আগেই অতিথি পাখি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ক্যাম্পাসে। পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত জাবি ক্যাম্পাস।

শীক্ষার্থীদের যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ বলা হয়। ঠিক তেমনি পাখিদের বলা হয়ে থাকে প্রকৃতির প্রাণ।প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলে পাখিদের কলতান।

 

অতিথি পাখি অতিথি পাখি
পথিক পাখির ঝাঁক,
দূর থেকে ওই আসছে উরে
হাজার হাজার লাখ।
হাড়ায় না পথ অতিথি পাখি
এ পথ তাদের চেনা নাকি?
আয় রে তোরা অতিথি পাখি
আয় রে তোরা আয়,
হরেক পাখির খুশীর মেলা
রঙের ছোঁয়া পায়।
শীতের কটা দিনের তরে
অতিথি পাখি জলায় চড়ে,
শীতের শেষে হীমের দেশে
আবার চলে যায়।

কবি,সরল দে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পাখি বিশেষজ্ঞদের দাবি এবছর পাখি আগমনের শুরুর সময় থেকেই বসবাস উপযোগী পরিবেশ পাওয়ায় পাখিরা এসেছে বেশি।।লেকগুলোতে দেশীয় পাখির মধ্যে শামুক খোল, জলপিপি, ডাহুক, জিরিয়া প্রজাতির পাখির দেখা গেছে। নিরাপদ পরিবেশ, প্রচুর পরিমাণে খাদ্য (বটগাছের ফল, পোকামাকড়,গুয়োপোকা এই খাদ্য গুলো বেশি) থাকায় পাখিরা এই বিশ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকেই বেছে নিয়েছে।

১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখির অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।সে বছর ৮০ প্রজাতির ৮৫০ টি পাখির দেখা পাওয়া যায়। পরবর্তী বছর গুলো থেকে অতিথি পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় মিলে ২৬ টি লেক রয়েছে।এর মধ্যে জিমনেসিয়ামের পাশের লেকটি সবচেয়ে বড়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় ১৯৫ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। যার মধ্যে ১২৬ প্রজাতির দেশি পাখি এবং ৬৮ প্রজাতির বিদেশি পাখি রয়েছে। এদের মধ্যে ডুবুরি, খোঁপা ডুবুরি,ছোট প্রাণকৌড়ি,সরালি,বড় সরালি, হাঁস,ল্যাঞ্জা হাঁস,খুনতে হাঁস,ভূতি হাঁস,ঝুটি হাঁস অন্যতম।প্রায় ৯৮ শতাংশ পাখিই সরালি প্রজাতির। হাঁস প্রজাতির পাখি বেশী লক্ষ্য করা যায়।

করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।ক্যাম্পাসের সকল দোকানপাট থেকে শুরু করে আবাসিক হল,যানবাহন সব বন্ধ।এক কথায় শুন শান নিরাবতা বিরাজ করছে জাবি ক্যাম্পাস।আর এরকম নিস্তদ্ধ নিরব পরিবেশ পাখিদের অভয়াশ্রমের জন্য যথাউপযুক্ত।
প্রতিবছর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকতো জাবি ক্যাম্পাস। পাখিদের কলকাকলি শুনতে ও তাদের দেখতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসতো পাখি প্রেমিরা। সবচেয়ে বড় কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি ভাবছে? প্রতিবছর যারা অতিথি পাখিদের বরন করে নিত ,যাদের কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যেত । সত্যি প্রকৃতি তার আপন রঙের খেলায় মেতে উঠেছে ঠিকি তবে সেই খেলা উপভোগ করার মতো কেউ নেই।

পাখি গবেষকদের ধারণা গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশী পাখি আসবে। পাখিদের নিরাপত্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছেন।