Agaminews
Dr. Neem Hakim

করোনাময় ক্যাম্পাসিয়ানদের জীবন


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১১, ২০২০, ১:২২ অপরাহ্ন /
করোনাময় ক্যাম্পাসিয়ানদের জীবন
 ইমন ইসলাম,জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি প্রতিনিধি

“করোনা ভাইরাসের তান্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে,গত মার্চ মাসের শুরুতে এদেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তার লক্ষ্য করা যায়।যার দরুন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকার দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ করে দেয়।আর এতেই বিপাকে পড়েছে দেশের হাজার হাজার উচ্চশিক্ষায় আসন্ন শিক্ষার্থীরা।

যেহেতু শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে বিভিন্ন বর্ষের বেশিরভাগ শীক্ষার্থীর সেমিষ্টার ,ইয়ার ফাইনাল , মাস্টার্সের মতো পজিশনের শীক্ষার্থীদের পরিক্ষা ,রেজাল্ট আটকে যাওয়ায় বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সাধারণ শীক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ। চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা আটকে যাওয়ায় চাকুরির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারছে না! গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ মাস বাড়িতে বসে অবসর দিন যাপন করছেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। অথচ আজকে বিশ্ববিদ্যালয় তার ভীত তুলে ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে, তবে তার সৌন্দর্য উপভোগ করার মানুষ নেই।শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসের মায়ায় প্রহর গুনে সময় পার করছে। শীক্ষার্থীরা এক দিকে যেমন তাদের শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে পাড়ছে না, ঠিক তেমনি ভাবে অন্যদিকে সেশনজটের কবলে পড়ার আশংকায় অনেক শিক্ষার্থী ভীত হয়ে পড়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও সরকারের নির্দেশে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যেই অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।তবে সেটা কতটা কার্যকর তাও প্রশ্নবিদ্ধ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০%শতাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা।যাদের সিংহভাগ হত-দরিদ্র পরিবারের সন্তান।যাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের কাছে ল্যাপটপ তো দূরের কথা, ভালো দামী স্মার্টফোন ও নেই।
আবার আছে ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যা।প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের অন্যতম একটি সমস্যা হলো দূর্বল ইন্টারনেট সংযোগ।যে কারণে শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা অংশ অনলাইন ক্লাস করা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অনলাইন ক্লাস শুরু থেকেই হচ্ছে , তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নেট প্রব্লেম ও আর্থিক সমস্যার কারণে অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যদি আর্থিক কিছু সুযোগ সুবিধা প্রদান করে অনলাইন ক্লাসের কিছুটা সমস্যা সমাধান হলেও হতে পারে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই টিউশনি ও পার্ট টাইম(খন্ড-কালীন)কাজ করার মাধ্যমে তারা তাদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে থাকে। অথচ করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে অবস্থান করায় তাদের সেই সামান্য আয় রোজগার টুকু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে। ক্যাম্পাসিয়ানদের লাইফে এখন হাহাকার ছাড়া আর কিছু নেই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, একসাথে চা খাওয়া,ঘুরাঘুরি করা , একসাথে ক্লাস করা,সে সবই এখন শুধু স্মৃতি হয়ে বেঁচে রয়েছে আমাদেরই মাঝে। তবুও ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা এই প্রকৃতি প্রদত্ত মস্ত সমস্যা ঠেলে প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে ফিরতে আশাবাদী!”