Agaminews
Dr. Neem Hakim

প্রশাসনের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ! মুদি দোকানে এলপি গ্যাস অরক্ষিতভাবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশংকা


আবদুল্লাহ আল হাদী প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২০, ১১:১৯ অপরাহ্ন /
প্রশাসনের নেই কোনো ভ্রুক্ষেপ! মুদি দোকানে এলপি গ্যাস অরক্ষিতভাবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশংকা

স্টাফ রিপোর্টার :  গোয়াইনঘাট উপজেলার হাট বাজারে সর্বত্রই এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রসারিত হয়েছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। অথচ এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে গোয়াইনঘাট উপজেলার যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। বেশিরভাগ বিক্রেতার নেই বিস্ফোরক লাইসেন্স। নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতামূলক সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও কেউ নিয়ম মানছেন না।

লাইসেন্সবিহীন অরক্ষিতভাবে অবাধে চলছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। মাননির্ণয় ছাড়াই এসব সিলিন্ডার গ্রামীণ জনপদের মানুষ ব্যবহার করছে। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এ গোয়াইনঘাট উপজেলার সর্বত্র। হাদারপার বাজার সংলগ্ন তৈলাক্ত পদার্থ তেল পাম্পের সাথে মেসর্স রাফি ট্রেডার্স সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা খোলা আকাশের নিচে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেদারছে ব্যবসা করছেন মানছেন না বিস্ফোরণের নীতিমালা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার।

এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ও বিভিন্ন স্থানে সিলিন্ডার বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাবাসী মাঝে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলিন্ডারের মাধ্যমে আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরের কয়েকটি নীতিমালা রয়েছে। মহা বিস্ফোরক অধিদফতর কর্তৃক এসব নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং সেলও রয়েছে।

দেশের বেশ কয়েকটি গ্রুপ অব কোম্পানি আবাসিক খাতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি এবং বাজারজাত করছে। আর নীতিমালা ভঙ্গ করে এসব সিলিন্ডার এখন যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক অধিদফতর গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় ও বিপণন লাইসেন্স প্রদান করলেও সাব-ডিলারের নামে এসব প্রতিষ্ঠান বাজারে মুদি মালের মতো গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক গোয়াইনঘাট উপজেলার এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করার কথা থাকলেও গোয়াইনঘাট ফায়ার সার্ভিস না থাকায়। সিলেট জেলা ফায়ার সার্ভিস কোন প্রকার অবধি পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি গোয়াইনঘাট উপজেলায়। বিধি মোতাবেক ১০টির বেশি সিলেন্ডার মজুদ রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক।

বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা ২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া অনধিক ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলেন্ডার মজুদ করা যাবে।

তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী এসব সিলেন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং আগুন নিয়ন্ত্রক সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গণে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না।

এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চা-দোকান থেকে আরম্ভ করে ভ্যারাইটিজ স্টোরেও পাওয়া যায় এ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল।

বর্তমান সময়ে গোয়াইনঘাট উপজেলায় সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে । অনেকরেইএকমাত্র ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস। কিন্তু এ সিলিন্ডার গ্যাস উপজেলার সর্বত্র বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে অরক্ষিত অবস্থায়। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবহন ও বিস্ফোরক অধিদফতরের অনুমতিবিহীন।

সরেজমিন দেখা গেছে, আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা দোকানে ও গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া

দোকানের সামনে এমনকি ফুটপাথে সিলিন্ডার ফেলে রেখে এ ব্যবসা নির্বিগ্নে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ীরা। অরক্ষিত অবস্থায় যত্রতত্র সিলিন্ডার ফেলে রেখে বিক্রির ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার কথা থাকলেও তা নেই অধিকাংশ দোকানে।

বর্তমানে এ উপজেলাতেই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০/৩০ হাজার। ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিলেন্ডার নিজেদের মনগড়াভাবে যেখানে সেখানে সিলিন্ডারের বোতল ফেলে রেখে ব্যবসা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই এসব দোকানে। বেশিরভাগ দোকানি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিক সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, যেসব দোকানে সনদ ছাড়া অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস বিক্রি করছে সেগুলোকে যেন আইনের আওতায় আনা হবে। শিগগিরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এসব দোকানির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।