Agaminews
Dr. Neem Hakim

মাইগ্রেন- ডা. সাইফুল আলম


আবদুল্লাহ আল হাদী প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২০, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন /
মাইগ্রেন- ডা. সাইফুল আলম

স্টাফ রিপোর্টার :  “মাইগ্রেন” শব্দের উৎপত্তি হয়েছে গ্রীক শব্দ হেমিক্রানিয়া থেকে, যার অর্থ “মাথার একদিকে ব্যথা”। হেমি অর্থ “অর্ধেক”, এবং ক্রানিয়ন অর্থ “খুলি”। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক দিকে হয়, ডান অথবা বাঁ। সময়বিশেষে দিক পরিবর্তিত হতে পারে। তবে মাথার দু’দিকেই যে এ ব্যথা হতে পারে। বমি-বমি ভাব থাকতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে শতকরা প্রায় ১১ জন বয়স্ক মানুষ মাইগ্রেনজনিত মাথা ব্যথায় ভোগেন। ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মাইগ্রেনজনিত মাথা ব্যথা বেশি হয়।

করণ:
মাইগ্রেন কেন হয় তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোনো কারণে হতে পারে। সাধারণত পুরুষের চেয়ে মহিলাদের বেশি হয়। পুরুষ ও মহিলাদের এই অনুপাত ১:৫। মহিলাদের মাসিকের সময় এই রোগটি বেশি দেখা দেয়।মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে ৩ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এই সময়ে ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। মাসে কয়েকবার পর্যন্ত মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে।
চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম, অনিদ্রা, অনেকক্ষণ টিভি দেখা, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করা, অতিরিক্ত মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদির কারণে এ রোগ হতে পারে। এছাড়া মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতি উজ্জ্বল আলো এই রোগকে ত্বরান্বিত করে।

চিকিৎসা:
বেশি মাথাব্যথা কি়ংবা বারবার মাথাব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাইগ্রেন চিকিৎসায় দুটো ধাপ রয়েছে- একটি এবোরটিব এবং অন্যটি প্রিভেনটিব।যাদের বার বার ব্যথা হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় তাদের জন্য প্রিভেনটিব চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। মাইগ্রেন একধরনের প্রাইমারি হেডেক, যা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।

প্রতিরোধ:
মাইগ্রেন প্রতিরোধে ঘুম পর্যাপ্ত হতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। অহেতুক রাত জাগবেন না। অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা। কড়া রোদ বা তীব্র ঠান্ডা পরিহার করতে হবে। উচ্চশব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ না থাকা। বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে না থাকা। মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, বিশ্রাম করা, ঠান্ডা কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা উচিত। রাতের খাবার ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে সেরে ফেলুন। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করে ফেলুন। কোনো বেলার খাবার মিস করবেন না।ঘুমানোর আগে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলুন।অ্যালকোহল, সিগারেট, পনির ও চকোলেট পরিহার করুন।