Agaminews
Dr. Neem Hakim

তিন সাওতাল হত্যার ৪ বছর আজ বিচারের দাবিতে অনড় সাওতাল আদিবাসীরা


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২০, ৬:১১ অপরাহ্ন /
তিন সাওতাল হত্যার ৪ বছর আজ বিচারের দাবিতে অনড় সাওতাল আদিবাসীরা

সোহাগ খন্দকার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ বাদগা ফার্মের জমিতে বসতি স্থাপনকারি সাঁওতালদের উচ্ছেদ ও ৩ সাওতালকে হত্যার চার বছর আজ। এই দিনে তাদের বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৪ বছর হতে চললেও এখনও শেষ হয়নি বিচার কাজ। বিচারের দাবীতে অনড় সাওতাল আদিবাসীরা বাঙ্গালীরা, চলছে সমাবেশ । এদিকে উচ্ছেদকৃত জায়গায় সাঁওতালরা আবারো বসতি স্থাপন করে চাষাবাদ করলেও এবিষয়ে নিরব জেলা প্রশাসন ও মিল কতৃপক্ষ। তবে আবারো উচ্ছেদ আতংক এবং ক্ষয়ক্ষতির সংকায় আছেন সাওতাল আদিবাসীরা। বিষয়টি সমাধানে সরকারের দুষছেন বিশিষ্টজনেরা।

মামলার বিবারন ও বিভিন্ন সুত্রে জানাযায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রংপুর সুগার মিলের বিরোধপূর্ন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের ১৮৪২ একর জমিতে বসতি স্থাপনকারি সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদের সময় সাওতালদের সাথে সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সাওতালদের ঘড়-বাড়ি। চলে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা। নিহত হয় ৩ সাওতাল। আহত হয় অনেকে। ঘটনার পর সাঁওতালদের পক্ষ থেকে ১৬ নভেম্বর ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার দুই বছর পর গত বছরের ২৮ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন-পিবিআই আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। সাওতালদের অভিযোগ মুল আসামীদের বাদ দিয়ে মনগড়া চার্জশীট দিয়েছে পিবিআই। পরবর্তীতে ওই চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দাখিল করলে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। হামলার ৪ বছরেও জমি ফেরত না পেয়ে ও মামলায় মুল আসামীদের বাদ দেওয়ায় এখনো তারা বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেন সাওতালরা।

উচ্ছেদের পর তারা আশ্রয় নিয়েছিলো পাশ্ববর্তি জয়পুর ও মাদারপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। উচ্ছেদের শিকার সাঁওতাল আদিবাসী ও বাঙ্গালীরা চলতি বছর উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় বসতি স্থাপন করে প্রায় ১৪ শ’ একর জমিতে চাষাবাদ করেছে তারা। তবে উঠতি পাকা ধান কাটতে বাধা ও উচ্ছেদ আতংকে আছেন সাওতাল ও বাঙ্গালীরা।

স্থানীয় ফেনাক্সি টুডু জনান, মামলার মুল আসামী গোবিন্দগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার ও ফাসির না দিয়ে আমরা আরো প্রাণ বিসর্জন দিবো । তবুও সাওতাল হত্যা ও সাওতাল বসতিতে অগ্নি সংযেগের বিচার আদায় করেবো ।

সাওতাল হত্যা মামলার বাদী থমাস হেব্রম বলেন, মুল আসামীদের বাদ দিয়ে পিবিআই এর দেয়া চার্জশীট প্রত্যাখ্যান করার পর প্রায় এক বছরের সিআইডির করা তদন্তের কোন অগ্রগতি নেই। সুষ্ঠ বিচার না পেলে আরো জোড়ালো আন্দোলন করা হবে ।

সাহেবগঞ্জ ভুমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি, ফিলিমন বাস্কে বলেন, মামলার মুল আসামী গোবিন্দগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ মামলার এজাহার ভুক্ত ৩৩ আসামীকে গ্রেফতারসহ আদিবাসীদের জন্য স্বাধীন ভুমি কমিশন গঠনসহ সরকারকে ৭ দফা দাবী জানানো হয়েছে । আমাদের দাবী আদায় করতে আমরা সব ধরবেন অন্দোলনে জন্য প্রস্তুত ।

আপর দিকে উচ্ছেদকৃত জায়গায় সাঁওতালদের আবারো বসতি ও চাষাবাদের বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে রাজী হয়নি জেলা প্রশাসন ও রংপুর সুগার মিল কতৃপক্ষ।

জেলা নাগরিক পরিষদ ও আদিবাসী-বাঙ্গালী সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু , আশ্রয়হীন সাওতালরা নিরুপায় হয়ে পুনরায় উচ্ছেদকৃত জায়গায় গিয়ে বসতি ও চাষাবাদ শুরু করেছে। বিষয়টি নিস্পত্তিতে সরকারের নিরবতা ও দীর্ঘসূত্রিতাই দায়ী এবং আবারো তাদের উচ্ছেদ করতে গেলে ক্ষয় ক্ষতির ঘটনা ঘটবে যা কাম্য নয়। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে শান্তিপূণ্য সমাধানের করবে বলে আশা করেন তিনি ।

উলেখ্য, চার বছর পুর্তিতে আজ সাওতাল পল্লীতে ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গো-হাটে বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করছেন আদিবাসি সাওতালরা।