Agaminews
Dr. Neem Hakim

লাল চা। পর্ব ০১


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২০, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন /
লাল চা। পর্ব ০১

 চোখ খোলার ইচ্ছা শক্তি থাকলেও উপায় নেই, খোলা যাচ্ছে না, মোটা ইলাস্টিক দেয়া ভেতরে উপরে পাতলা কাপড় দিয়ে সেলাই করা যেটা দিয়ে চোখ বাধা, মাঝে মাঝে হয়ত কারেন্ট চলে যাচ্ছে, ফ্যানের ক্যার ক্যার ক্যার আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায় আর আমার মাথা থেকে যখন ঘাম কালো কাপড়টা স্পর্শ করে তখন বেশ জালা করে, কাটা ঘায়ে শুধু নুনের ছিটা না, হালকা পানি লাগলেও জালা করে তার মধ্যে ঘামে আবার লবণও থাকে ।

প্রায় ১ মাস হতে চলছে গোসল নেই, দুই হাতে লক সিস্টেম হাতকড়া থাকে! বাথরুম চাপ দিলে হাত খুলে দিয়ে বাথরুমের ভেতরে গিয়ে চোখ খুলতে বলে, প্রায় ১ মাস এর কাছাকাছি শুধুমাত্র বাথরুম ব্যতিত আর কিছুই চোখে দেখার সৌভাগ্য হয় নাই৷ এখানে এসে বুঝতেছি না কোনটায় আমি সেন্সলেস আর কোনটায় আমি ঘুম।

তিন বেলার খাবারটা কেউ একজন এসে খাওয়ায় দেয়। দুই তিন জোড়া চুড়ি এক সাথে দোল খেলে যে আওয়াজ হয়,তাই বলা যায় খাবার যে খাওয়ায় দেয় সে একজন নারী। ২৭ দিন হলো তিনি খুব যত্নে খাবার খাওয়ায়, সুন্দর করে মুখ ধুয়ে দিয়ে সম্ভবত শাড়ির আচল দিয়ে মুছে দিয়ে যায় কিন্তু একটা কথাও বলে না, এত ডাকি, কোনো কথা নেই। জং ধরা দরজাটা খুলছে আওয়াজ কানে এলো আমার। সেদিন শুক্রবার, শনিবার সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজে যাওয়ার কথা ছিল । সাড়ে ৯ টা বাজে মালিবাগ মোড়ে লেঞ্চুর দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এক ভদ্র লোক সামনে এসে দাড়িয়ে বলছে, -আপনি মিন্টু ভাই না? -জি…আপনাকে সঠিক চিনলাম না যে? -ওই যে নাইন ওয়ান চ্যানেল এর প্রতিস্টা বার্ষিকীতে পরিচয় হলাম। তারপর চায়ের কাপ রেখে বিলটা লেঞ্চুর হাতে দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই মিন্টুর আর কিচ্ছু মনে নাই। দরজার শব্দে বোঝা গেলেও কোন বেলার ভাত গিলছি তা জানা নেই! -আচ্ছা আপনি তো নারী! আপনার মন কি এতটুকু নরম হয় না? একটা কথা বলেন? আমি তো বলছি না আমার চোখ খুলে দিন! আমার হাত খুলে দিন! আমি শুধু বলছি আমার সাথে একটু কথা বলুন, আমি কেনো এখানে, আমাকে কেনো এভাবে আটকে রাখা হয়েছে, কি চান আপনারা! আমি খাচ্ছি না! আমাকে জোড় করা হচ্ছে! কিছুক্ষণ পর আমার কান এর ভেতর একটা কিযেনো ডুকিয়ে দিয়ে চুলাকায় দিচ্ছে, আর একটি মিস্টি কন্ঠ ফিসফিস করে বলছে, -আমি আপনার কান চুলকানোর বাহানা করে কানের কাছে মুখ নিয়ে এসেছি, এখানে চারিদিকে সিসি ক্যামেরা, আরেকটা টু শব্দ করলেও শোনা যায়। -আমি মিলন গ্রুপ অব কোম্পানিতে চাকরি করি। মিলন কান্তির নির্দেশেই আপনাকে অপহরণ করা হয়েছে! আপনাকে অপহরণ এর কারন আমি জানি না তবে মিলন সাহেব এবার সংসদ নির্বাচনে দাড়াবেন, ভোটের আরো ৩ মাস আপনাকে এই কয়েকটি দিন সম্ভবত এখানেই থাকতে হবে। আপনার মত একজন সাহসী সাংবাদিক এর জন্য আমি কিছুই করতে পারছি না, প্রতিদিনি বাড়ি গেলেই টিভি খুললেই পাই আপনাকে খোজ করে যাচ্ছে পুলিশ, র্যাব সহ আরো অনেকেই। কি করব বলুন, আবেগ দিয়ে তো আর বাস্তবতা চলে না, আপনার উপর মায়া করে পুলিশকে তথ্য দিলে যদি আমাকে আর আমার মেয়েকেও মেরে দেয়! আমিও বুঝে উঠলাম, আর ফিসফিস করে বলতে লাগলাম, ধন্যবাদ৷ continue..