Agaminews
Dr. Neem Hakim

সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় কাপালা বা (স্পনসরর্শিপ) প্রথা বাতিল করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২০, ১০:২৬ অপরাহ্ন /
সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় কাপালা বা (স্পনসরর্শিপ) প্রথা বাতিল করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে

সৌদি আরব থেকে গাজী আল মামুন

শ্রমিক ও নিয়োগকারীদের মধ্যে চুক্তি ভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আজ জাতীয় কর্মসূচির আওতায় একটি সংস্কারের উদ্যোগ চালু করেছে। যা আগামী ১৪ ই মার্চ ২০২১ থেকে কার্যকর হবে। জানিয়েছেন সৌদি প্রেস এজেন্সি ও সৌদি গেজেট। সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করবে। যাতে করে মালিক এবং শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়।

সৌদি সরকার তেল নির্ভরতা কমিয়ে দেশটিতে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেখানে থাকবে না মালিক-শ্রমিকের কোন ধরনের বৈষম্য। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য পূর্বের ৭০ বছরের চলে আসা কাফালা সিস্টেম বিলুপ্ত করেছে দেশটির সরকার। আগামী ১৪ ই মার্চ ২০২১ থেকে যা কার্যকর হবে।

এই কাফালা উঠে গেলে কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা শ্রমিক পাবে বা কোন সমস্যা হবে কিনা?

প্রবাসী শ্রমিকরা যে সুবিধাগুলি পাবে তা নিম্নে দেওয়া হল।

  1. এক। যে কোন কোম্পানি বা মালিকের সাথে চুক্তি শেষ হলে পুনরায় চুক্তি নবায়ন না করে মালিকের অনুমোদন ছাড়াই স্বাধীনভাবে অন্যত্র কাজ করার সুযোগ পাবেন।

  2. দুই। এক্সিট রি এন্ট্রি ভিসা বা ছুটিতে দেশে গিয়ে আবার পুনরায় আসতে চাইলে মালিকের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। নিজের আভশার একাউন্টের মাধ্যমে ছুটি লাগিয়ে দেশে যেতে পারবে।

  3. তিন। এক্সিট ভিসা বা একেবারে সৌদি আরব ছাড়তে চাইলে একই নিয়মে করতে পারবে।

  1. চার। ইকামা করার জন্য মালিকের প্রয়োজন হবে না। অনলাইনে ডিজিটাল সিস্টেমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ইকামা নবায়ন করা যাবে।

  2. পাঁচ। কোন শ্রমিক যদি মালিকের দ্বারা বৈষম্যের স্বীকার হন, সরাসরি শ্রম মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে তার প্রতিকার পাওয়া যাবে।

  3. ছয়। কোন কোম্পানি বা মালিকের অধীনে কাজ করার আগে ডিজিটাল চুক্তিনামা করতে হবে।

এছাড়াও মালিকদের স্বার্থরক্ষায় থাকবে নানা নীতিমালা। কোন শ্রমিক মালিকের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে কাজ ছাড়তে পারবে না উপযুক্ত কারণ ছাড়া। মালিক-শ্রমিকের সাথে কি রকম সম্পর্ক ঠিকমতো বেতন পাচ্ছে কিনা তার কর্মীরা, তা নিয়মিত তদারকি করবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে (এলআর আই) কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে স্বাধীনভাবে কাজ করার লক্ষে এই উদ্যোগটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যালোচনা করে আসছে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে এক কোটি প্রবাসী এই সুফল ভোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।