Agaminews
Dr. Neem Hakim

উৎপাদনশীল সমাজ ভাবনা-রবিউল ইসলাম রনি


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২০, ১:৩৫ অপরাহ্ন /
উৎপাদনশীল সমাজ ভাবনা-রবিউল ইসলাম রনি

রবিউল ইসলাম রনি

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে সবাই কি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে?নিশ্চয়ই পারছেনা।একজন ইতিহাসে পড়ছে আর চাকরি করছে ব্যাংকে।একজন ডাক্তারি পড়ছে কিন্তু চাকরি করছে পুলিশে।ইঞ্জিনিয়াররা উন্নত ও স্বাচ্ছন্দ জীবনের আশায় ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) -এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে উঠছে।ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি থেকে যেসব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান দেশে হচ্ছে না।তারা বিদেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোতে চাকরি করছে।সামান্য অর্থের ঝনঝনানিতেই মেধাবী ছেলে-মেয়েগুলো নিজেদের মেধাকে বিক্রি করে দিচ্ছে।ফলে আজ দেশ মেধা-শুন্য হয়ে পড়ছে।

সরকারি খরচে দেশের জনগণের টাকায় তারা পড়ালেখা করে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি করে সেখানে নাগরিকত্ব নিয়ে নিচ্ছে।কিন্তু উপায় নেই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।দেশীয় উদ্যোক্তারা ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী তৈরি করার ঝুঁকি নিতে চায় না কারণ অনেক বড় বড় কোম্পানির ভিড়ে তারা টিকতে পারবে না। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হয়ে গিয়েছে এখনো পর্যন্ত আমরা একটি মোটরবাইক বা মোবাইল সেট তৈরি করতে পারি নি।কেউ যদি এগুলো তৈরি করার উদ্যোগ না নেয়;তাহলে পরবর্তী ৪৮ বছরেও হবে না।তাই প্রয়োজন হলে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে আমি মনে করি।আমরা যদি নিজেরা এইসব পণ্য তৈরি করি এবং নিজেরা ব্যবহার করি এবং মানসম্মত পণ্য গুলো বিদেশে যথাযোগ্য মূল্যে রপ্তানি করতে পারি তাহলে বিদেশি মূদ্রা অর্জন করতে পারবো।পাশাপাশি বিদেশী পণ্য ও আমাদের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।
একসময় আমাদের দেশীয় কোম্পানি অনেক উৎপাদনশীল ও সম্পদশালী হবে আমরা বিদেশে উন্নত মানের পণ্য বাজারজাত করতে পারব।সবচেয়ে বড় কথা আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। চীন একসময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১২ বছর বন্ধ রেখেছিলো।আর এই সময়ের মধ্যে তারা ছেলেমেয়েদেরকে কর্ম দক্ষ করে গড়ে তুলেছিলো।এতে ছেলেমেয়েরা মূর্খ হয়ে যায়নি বরং তারা আজ এক অন্যরকম চীনের জন্ম দিয়েছে।আজ চীন বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশের একটি।তবে তার মানে এই নয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে রাখতে হবে।সমগ্র অঞ্চলের ছেলে মেয়েদের বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে তাদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে আমাদের দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তখন আমরাও তৈরি করতে পারবো অত্যাধুনিক মেশিন গান,ট্যাংক, মিসাইল, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার, বিমান।আরও তৈরি করতে পারব অত্যাধুনিক দুই চাক, তিন চাকা, চার চাকা, অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন।তাই সরকারের উচিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন গবেষণাগার তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া।কিছুদিন আগে বুয়েট কয়েকটি ড্রোন বিমানের অর্ডার করেছিলো বিদেশে। সেটি এয়ারপোর্টে আটকে দেওয়া হয়েছে।তারপর সেটা আর বুয়েট পর্যন্ত পৌঁছায়নি।তাহলে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কিভাবে ড্রোনসহ আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করতে শিখবে? কিভাবে আমরা সামনে এগিয়ে যাবো? প্রশ্ন রয়ে উৎপাদনশীল ও সু-চিন্তাশীল বিবেকবান মানুষের কাছে,প্রশ্ন রয়ে গেলো সুশীল তথা দেশের সর্বস্তরের শিক্ষিত সমাজের মানুষের কাছে?
লিখেছেনঃ রবিউল ইসলাম রনি, শিক্ষক ও লেখক, সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট।
Aa