Agaminews
Dr. Neem Hakim

মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২০, ১:১৪ অপরাহ্ন /
মুজিববর্ষের অঙ্গীকার হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার

বিশেষ সংবাদ

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিনের বক্তব্যের সূত্রধরে বলছি তিনি সম্প্রতি ফেনীতে সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠক বলেছেন সিক্স পাস করে, হকারি করেও সাংবাদিকতায় আসছে। পান ও চায়ের দোকানীও এখন সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। ফেসবুক চালায়, সেও মোটর সাইকেলের সামনে প্রেস লাগিয়ে ঘুরছে। রাস্তায় বের হলে সাংবাদিক লেখার গাড়ির ছড়াছড়ি। আসলে বেশির ভাগই ভূয়া। এখন প্রশ্ন হলো; গণমাধ্যম অঙ্গনের এই ভূত তাড়ানোর দায়িত্ব কার?

গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের বিশাল এই অসঙ্গতি দূর করার দায়িত্বইবা কার? কেনো আজও পেশার মধ্যে হলুদ সাংবাদিক, অপ-সাংবাদিক, ভূয়া সাংবাদিকতার কালিমা লেপন করে চলতে হচ্ছে। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে কেনো এখনও গণমাধ্যম অঙ্গনটি অরক্ষিত? এ পেশায় যে কেউ যেকোন সময় প্রবেশ করতে পারছেন, কেনো? আজো সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশে নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলোনা? যেখানে একটি পত্রিকার সম্পাদক হতে কতটুকু শিক্ষাগত প্রয়োজন তাও পরিস্কার নয়। ফলে এইট পাস লোকেও পত্রিকার সম্পাদনা করছেন; কী আশ্চর্য্য! সম্পাদক যদি এইট পাস হন তবে ওই মিডিয়ার দ্বারা দেশ,জাতি কতটুকু উপকৃত হবেন। জনশ্রুতি রয়েছে, যুগযুগ ধরে বাংলাদেশী গণমাধ্যম বিশেষ কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে চলছে। যার ফলে আজ সাংবাদিকতার করুন দশা।

বিশেষ কোন গোষ্ঠীর লেজুরবৃত্তি হয়ে গণমাধ্যম কাজ করার ফলে পেশার নিজস্ব মর্যাদা, স্বকীয়তা, স্বাধীনতা কিংবা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যেখানে সাংবাদিক হত্যা- নির্যাতনের বিচার আকাশ কুসুম। এ প্রসংগে বাংলাদেশ মমফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট বিভিন্ন মময় প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আর সেই প্রস্তাবসমুহ নিম্মরুপ: সরকারকে হলুদ, ভূয়া ও অপ-সাংবাদিকমুক্ত করতে দ্রুত পেশাদার সাংবাদিকের তালিকা প্রণয়ন করে আইডি নম্বর প্রদান করতে হবে। নিজ পেশার মর্যাদা,অধিকার ও দাবি আদায়ে যে যার জায়গায় থেকে স্বোচ্চার হতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে দাবি জোড়ালো করতে হবে। অরক্ষিত গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। তথ্য অধিদপ্তরকে সাংবাদিকদের নিজস্ব অধিদপ্তরে রুপান্তরিত করতে হবে।

সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা ও সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে আইন প্রণয়নসহ ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় দ্রুত সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবির বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দেশ স্বাধীনের পরক্ষনেই সাংবাদিকদের জন্য প্রেস কাউন্সিল গঠন করেছিলেন, কিন্তু আজ তা প্রায় অচল। এই সূত্রধরে তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক কল্যান ট্টাষ্ট গঠন করেছেন। সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানামুখী প্রকল্প রয়েছে। জীবনমান উন্নয়নে সাংবাদিক কল্যাণ ট্টাষ্টসহ প্রশিক্ষন প্রদানের জন্য প্রেস ইনষ্ট্রিটিউট কাজ করছে। ইতিমধ্যে হলুদ সাংবাদিকতারোধ করতে মুজিববর্ষে একটি শ্লোগানও দেয়া হয়েছে। আর সেটি হলো: মুজিবষর্ষের অঙ্গীকার হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার। যাক দীর্ঘদিন পরে হলেও সরকার হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারে উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে তা কিভাবে? সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারনে আজও আলোর মূখ দেখেনি।

কেউ ভুল পথে পথ চললে শত বছরেও গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনা। তেমনি প্রক্রিয়ায় প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের স্বপ্ন দেখছেন। যেখানে একটি জেলা- উপজেলায় একাধিক প্রেসক্লাব রয়েছে। আর প্রেস কাউন্সিল সেই সব প্রেসক্লাবের কাছে সাংবাদিকের তালিকা চেয়েছেন ডিসিদের মাধ্যমে। তা কখনোই সম্ভব হবেনা। তাই সরকারের মহতী উদ্যোগকে সফল করতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের নেতৃ্ৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিনের কাছে একটি প্রস্তাবণা তুলে ধরা হয়েছিল। প্রস্তাবণাটি ছিলো এরুপ যে, সারাদেশের পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজে ডিসিদের সাথে জেলা তথ্য অধিদপ্তরকে কাজে লাগানো।

আর সে অনুযায়ী জেলা তথ্য অফিসারের একটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে তার জেলার সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেস কাউন্সিলে পাঠানো সম্ভব। আর পূরো এই কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগতো মাত্র পনের দিন। কিন্তু বিগত তিন বছরেও সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কাজটি সম্পন্ন হয়নি। প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বিএমএসএফের একটি সভায় যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশে গরু ছাগলের হিসাব প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে থাকলেও দেশের সাংবাদিকের সংখ্যা তথ্য অধিদপ্তরে নেই। অবিলম্বে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজাতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো পচন ধরা গণমাধ্যম আরো দ্রুত নি:শ্বেষ হয়ে যাবে। রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ খ্যাত (চার খুঁটির একটি) গণমাধ্যমে নি:শ্বেষ হলে বাকি খুঁটিগুলো বিকল হতে সময় লাগবেনা। লেখক: আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি, ০১৭১২৩০৬৫০১ অক্টোবর ৩১ খ্রী: ২০২০।