Agaminews
Dr. Neem Hakim

লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যা


আবদুল্লাহ আল হাদী প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২০, ২:৫৭ অপরাহ্ন /
লালমনিরহাটে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদন :   লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার এক যুবককে পিটিয়ে ও পরে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাগরিব এর নামাজের সময় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের বুড়িমারী স্থলবন্দর (বাঁশকল) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হওয়া ব্যক্তির নাম শহীদুল নবী জুয়েল (৪২)। তাঁর বাড়ি রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার আশেপাশে। পিতার নাম আবদুল ওয়াজেদ মিয়া । ছাত্র জীবনে তিনি রংপুর জিলা স্কুল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরবর্তীতে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানায় তার ভাই তরু। এই চাকরি চলে যাবার পর থেকে গত কয়েকমাস যাবত তিনি মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েন। নিহত ব্যক্তির শালবন মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দারা জানান তিনি অনেক মেধাবী এবং ধার্মিক মানুষ ছিলেন।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন নিয়মিতই। কেন কি কারনে এমন ঘটনা ঘটলো তারা সেটা মেনেনিতে পারছে না।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় এই যুবককে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারলেও স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনেছে।

রাত সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবু জাফরসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কি কারণে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারপর এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে।’

তবে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করায় এবং প্রশাসনের সক্রিয় চেষ্টায় বর্তমানে পরিস্থিতি সাভাবিক আছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত একজনকে পুড়িয়ে মারার খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, ‘এ ঘটনায় অপর এক ব্যক্তি আহতও হয়েছেন।

কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এটা পরে জানানো হবে।’

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করে, (২৯ অক্টবর বিকেলে আসরের নামাজের পর ওই যুবক মোটরসাইকেলে এসে বুড়িমারী জামে মসজিদে ঢুকে পড়েন। তিনি সেখানে কোরআন অবমাননা করেন। তবে কীভাবে ওই যুবক কোরআন অবমাননা করেন সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে এ সময় বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা ওই যুবককে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে পেটানো শুরু করে উত্তেজিত জনতা। একপর্যায়ে বিজিবির চেকপোস্ট (বাঁশকল) এলাকায় ওই ব্যক্তির শরীরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার মোটরসাইকেলটিতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়ছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহার, পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত। তাঁরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাঁরাও সেখানে আটকে পড়ে যান।

এদিকে, এ ঘটনায় রংপুর নগরীর মুন্সীপাড়া এলাকার সুলতান জোবায়ের আব্বাস (৫১) নামের আহত এক ব্যক্তিকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন সুলতান জোবায়ের আব্বাস নিজেকে দলিল লেখক দাবি করে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তাঁর এক মক্কেলের সঙ্গে দেখা করতে এসে বুড়িমারীতে উত্তেজিত জনতার মারধরের শিকার হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো পরিচয় নেই।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক আজ রাতে জানান, আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে আরেক গুরুতর আহত শরীফকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার ফলে বাঁশকল এলাকায় মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উত্তেজিত পুলিশ তাদের সরাতে পারেনি।এঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ ও আহত হয় বলে জানান লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।