Agaminews
Dr. Neem Hakim

সৌদি আরবে বহুল প্রতীক্ষিত “কাফালা” (transfer) প্রথা বিলুপ্ত হচ্ছে খুব শীঘ্রই


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২০, ১২:৩২ অপরাহ্ন /
সৌদি আরবে বহুল প্রতীক্ষিত “কাফালা” (transfer) প্রথা বিলুপ্ত হচ্ছে খুব শীঘ্রই

গাজী আল মামুন সৌদি আরব থেকে।

সৌদি আরবের মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা থেকে জানা যায় দেশটিতে “কাফালা” বা transfer প্রথা বাতিল করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই। নির্দিষ্ট কোন কফিলের মাধ্যমে আর কোন প্রবাসীকে থাকতে হবে না। এবং যে কোন প্রবাসী শ্রমিক মালিকের অনুমতি পত্র ছাড়া যে কোনো কাজ এবং ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। আর এই কাফালা প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে দেশটিতে কর্মরত সকল শ্রমিক সেই দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ কাফালা প্রথা বিলুপ্ত হলে উপকৃত হবেন সৌদি আরবে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক। কারণ সৌদি আরবে কাজ অথবা ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই একজন সৌদি নাগরিকের অনুমতি এবং তার অধীনে কাজ করতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই কিছু কিছু সৌদি নাগরিক শ্রমিকদের উপর অন্যায় আবদার করে বসে। সময়মতো আকামা করে দিতে তালবাহানা করে, অনেক ক্ষেত্রে বছরের-পর-বছর আকামা করে দিচ্ছে না। যার কারণে অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে অবৈধ হয়ে যায়। এছাড়াও কফিল ছাড়া আকামা করা সম্ভব নয়, এবং দেশে ছুটিতে যেতে হলেও কফিলের অনুমতির প্রয়োজন হয়। যার কারণে অনেক কফিল শ্রমিকদেরকে তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করে। সময় মতো বেতন দিচ্ছে না। ইচ্ছা করলেও কোন শ্রমিক অন্য কাজ করতে পারে না যদি কফিল অনুমতি না দেন। আবার এমনও শোনা যায় ক্ষেত্র বিশেষ কেউ কেউ নিজের আকামার পয়সা দিতে হয়, আর সেই পয়সা কপিলকে আকামা করার জন্য দিলে অনেক অসাধু কফিল খেয়ে ফেলে বিভিন্ন রকমের তালবাহানা করে, যার জন্য ওই শ্রমিক বিপদে পড়ে যায়। এবং সর্বশেষ অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে কাজ করতে বাধ্য হয়।

সৌদি আরব সরকার দীর্ঘদিন থেকে এই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করে গেছেন অবশেষে সৌদি মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছেন তারা কাফালা প্রথা বিলুপ্ত করবেন। আগামী বছরের প্রথম ছয় মাসের ভিতরে কার্যকর করার কথা রয়েছে। আর এই কাফালা প্রথা বিলুপ্ত হলে সকল শ্রমিকরা সৌদি শ্রম সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যাবে। এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে সকল শ্রমিক তাদের আকামা ছুটিসহ আনুষঙ্গিক সকল কাজ করতে পারবেন। যার কারণে সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসীদের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কাতার এই প্রথা বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ।