Agaminews
Dr. Neem Hakim

সাইনোসাইটিস লক্ষণ ও চিকিৎসা – ডা. সাইফুল আলম


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৫, ২০২০, ৪:৪১ অপরাহ্ন /
সাইনোসাইটিস লক্ষণ ও চিকিৎসা – ডা. সাইফুল আলম

সাইনোসাইটিস অতি পরিচিত একটি রোগ।আমাদের নাকের চারপাশের অস্থিগুলোর পাশে বাতাসপূর্ণ কুঠরি থাকে।এদের সাইনাস বলে। সাইনাসের কাজ হলো মাথাকে হালকা রাখা, মাথাকে আঘাত থেকে রক্ষা করা, কণ্ঠস্বরকে সুরেলা রাখা, দাঁত ও চোয়াল গঠনে সহায়তা করা। যদি কোনো কারণে এ সাইনাসগুলোয় প্রদাহ সৃষ্টি হয়, তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিস ব্যাকটেরিয়া-জনিত ইনফেকশন, অ্যালার্জি অথবা অটোইমিউন ডিজিজ ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে।এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সারা বিশ্বের প্রতি ১০০ জনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।ঠাণ্ডার দেশে এই রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

উপসর্গ
মাথাব্যথা, মাথা ভার ভার লাগা ও মাথা বদ্ধভাব, নাক বন্ধ, নাক ভারী হয়ে থাকা, নাক দিয়ে অবিরাম বা ঘন ঘন পানি পড়া, নাকে গন্ধ না পাওয়া, মাঝে মাঝে বেশ জ্বর ওঠা বা সবসময় হালকা হালকা জ্বর ভাব থাকা, সবসময় শারীরিক দুর্বলতা, নাক ডাকা ও ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা দম বন্ধ হয়ে আসা বা স্লিপ এপনিয়া সিনড্রোম এগুলো সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চিকিৎসা
সাইনুসাইটিসের সমস্যায় ভুগলে গরম পানির ভাপ নিতে পারেন। এতে করে কিছুটা আরাম পাবেন, নাকের বন্ধভাবটাও কাটবে বেশ। এ ছাড়া নাক পরিষ্কার করতে হবে খুব ভালোভাবে। নাকের ভেতর কোনো কেমিক্যাল যেমন- বেনজিন, মেন্থলজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা যাবে না।জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল এবং চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে হতে পারেন।

প্রতিরোধ
যেহেতু অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যাগুলো থেকে সাইনোসাইটিসের অবতরণ ঘটে, তাই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এসব সমস্যার সমাধান করা। যদি আপনি ধূমপান করেন, তবে তা পরিত্যাগ করুন। বাড়িতে কার্পেট ব্যবহার করবেন না,ফোম দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র ব্যবহার করবেন না। নাকে খুব জোরে যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন, যাতে সাইনাস নিজে থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে।

লেখক: ডা.মোঃ সাইফুল আলম। এম.ডি.(রুদেন ইউনিভার্সিটি) মস্কো,রাশিয়া।