Agaminews
Dr. Neem Hakim

করোনা মহামারীঃ বিশ্বে দারিদ্রসীমার নিচে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ শিশু


আবদুল্লাহ আল হাদী প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২০, ২:৫০ অপরাহ্ন /
করোনা মহামারীঃ বিশ্বে দারিদ্রসীমার নিচে ৩৫ কোটি ৬০ লাখ শিশু

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক :  বিশ্বব্যাংক এবং ইউনিসেফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৩৫কোটি ৬০ লাখ শিশু এই মহামারী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছে।

‘গ্লোবাল এস্টিমেট অব চিলড্রেন ইন মানিটারি পভার্টির এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর পরিবারে মাথাপিছু আয় দিনে ১.৯০ ডলার বা তারও কম। যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য শিশুদের তুলনায় প্রায় এক পঞ্চমাংশের সমান।সেখানে পাঁচটি শিশুর মধ্যে এক জন এই দৈন্যদশার স্বীকার।

রিপোর্টে দেখা গেছে যে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চরম দারিদ্র সীমার নিচে থাকা শিশুর সংখ্যা অনেকটাই কমেছিল। কমপক্ষে ২ কোটি ৯০ লক্ষ শিশুর আর্থিক পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে টানা গৃহবন্দি আর মহামারীতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি কাঠামো ভেঙ্গে পড়ার যোগাড়। আর তারই সাথে আবার পুরনো চেহারায় ফিরে আসছে শিশু-দারিদ্রও। এই শিশুদের মধ্যে ২০ শতাংশই পাঁচ বছরের বয়সী ও উন্নয়নশীল দেশগুলির বাসিন্দা।

ইউনিসেফের প্রোগ্রামস ডিরেক্টর সঞ্জয় উইজেসেকেরা বলেন, “ছয়টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু চরম দারিদ্র্যে জীবনযাপন করছে। বিশ্বে একটা বড় সংখ্যক শিশুর আর্থিক অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল। মহামারি দুর্গতি আরও বাড়িয়েছে। মোট সংখ্যা শিউরে ওঠার মতো।’’
তিনি আরো বলেন, এসব শিশু এবং তাদের পরিবারকে এই দারিদ্রসীমার হাত থেকে রক্ষার জন্য সেই দেশের সরকারের উচিত তাদের দ্রুত পরিকল্পনার মধ্যে আনা।”
ইউনিসেফ তাদের রিপোর্টে বলছে, মানুষের দ্রুততম বিকাশ হয় শৈশবের শুরুতে। জন্মের পর থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত থাকে বিকাশের এই পর্ব।ছয় মাসের মধ্যেই মানুষের মস্তিষ্কের অর্ধেক গঠিত হয়ে যায় এবং আট বছরের মধ্যে তৈরি হয় ৯০ শতাংশ। শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি, আবেগ, সামাজিক যোগাযোগ ও শারীরিক সম্ভাবনা বিকাশের জন্য এই পর্যায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দারিদ্রতার নিচে থাকা এই শিশুগুলির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। তারা কতটুকু স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে তা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন ইউনিসেফ।

বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্য ও ইকুইটির গ্লোবাল ডিরেক্টর ক্যারোলিনা সানচেজ-পেরোমো বলেন, “এটা সত্য যে ছয়জনের মধ্যে একটি শিশু চরম দারিদ্র্যে জীবনযাপন করছে কিন্তু এই করোনা মহামারী চলতে থাকলে এর সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে”।