Agaminews
Dr. Neem Hakim

চট্টগ্রামে ১০ হাজার কেজি স্কুল প্রায় বন্ধের পথে


বার্তাকক্ষ প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২২, ২০২০, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন /
চট্টগ্রামে ১০ হাজার কেজি স্কুল প্রায় বন্ধের পথে

মো:মহসিন,চট্টগ্রাম সদর প্রতিনিধি : চিরতরে বন্ধের মুখে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ১০ হাজার কেজি স্কুল। এর সঙ্গে জড়িত দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষক এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। দেশে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ায় গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। টানা ৮ মাস বন্ধ থাকায় কেজি স্কুলগুলো একদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায় করতে পারছে না। অন্যদিকে, আয় না থাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানান, গত ৮ মাস ধরে দেশের লক্ষাধিক কেজি স্কুলের শিক্ষক বেকার হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ১০ হাজার কেজি স্কুলে দেড় লক্ষাধিক শিক্ষক রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই এখন বেকার সময় পার করছেন। এছাড়া, টানা ৮ মাস বন্ধ থাকায় কেজি স্কুলসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এখন নষ্ট হওয়ার পথে। এভাবে বন্ধ অবস্থায় চলতে থাকলে দেশের অধিকাংশ কেজি স্কুল বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন কেজি স্কুল নিয়ে গঠিত এসোসিয়েশনের নেতারা।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার স্বারকলিপি দিয়েছেন। এরপরও সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা আসেনি। আগামীকাল দেশের সব কেজি স্কুলের সংগঠনকে নিয়ে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ এর ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন দাবি নিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো জানান, আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সব কেজি স্কুল খুলে দিতে হবে। স্কুলের পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাতা এবং রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিনোদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে সিনেমা হল, সবকিছু এখন উন্মুক্ত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার সবকিছু খুলে দিচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেজি স্কুল খুলে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিআইএম জাহাঙ্গীর আলম।
ফাতেমা আক্তার। নগরীর ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের মিয়াখান নগরের ট্যালেন্ট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। চলতি বছরের শুরুতেও স্কুল ও টিউশন মিলে এই শিক্ষিকার আয় ছিল প্রায় ২০ হাজার টাকা। কিন্তু দেশের করোনার প্রভাব শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় ফাতেমা আক্তারের সব আয়ও।
কথা হলে দৈনিক দেশের খবরকে তিনি জানান, দেশে করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খুব আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ি। একসাথে স্কুল-টিউশন সব বন্ধ। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা স্কুল বন্ধ থাকলেও বেতন পাচ্ছেন। আমাদের মত কেজি স্কুলের শিক্ষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। একদিকে আর্থিক সংকট অন্যদিকে বাসায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে।