রায়পুরে ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রী- যুবক আটক

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:০৬ PM, ১৪ অক্টোবর ২০২০

মাহমুদ ফারুক নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মানুষিক প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্রী (১৩)কে একই বাড়ীর সুমন (২৬) নামের এক যুবক কতৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সুমনকে তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করেছেন পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাতা ইউপির গাছিরহাট এলাকায়। অভিযুক্ত সুমন একই এলাকার দিনমজুর মোঃ শাহজাহানের ছেলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দর্জি দোকানের কর্মচারী।

এ ঘটনায় আজ বুধবার মেয়েটির বাবা হতদরিদ্র রিকশাচালক কামাল হোসেন বাদি হয়ে সুমনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। আজ বুধবার সকালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য সদর হাসপাতালে এবং বিচারকের কাছে জবানবন্ধি দিতে আটক যুবককে পাঠানো হবে বলে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান।

মেয়েটির বাবা কামাল হোসেন জানান, প্রায় এক বছর ধরে তার প্রতিবন্ধী স্কুল পড়ুয়া মেয়েটির সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে একই বাড়ীর শাহজাহানের ছেলে সুমন। ১১ অক্টোবর (রবিবার) কৌশলে মেয়েটিকে তার ঘর থেকে ডেকে সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে সুমন।

এসময় সুমন প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ধর্ষণের সময় তার ফুফাতো ভাই রুমানকেও ডেকে নিয়ে আসে মেয়েটি ধর্ষণ করতে। তবে রুমান ধর্ষন না করেই তার বাড়ী চলে যায়। ধষর্ণের সময় বাড়ীর অন্য এক লোক ঘটনাটি দেখে সুমন ও মেয়েটিকে হাতে-নাতে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বাড়ীর লোকদেরকে অবহিত করে।

পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মেয়ের বাবা চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি সুমনকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে আটক করে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে বসিয়ে রেখে পরে ছেড়ে দেন। মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া সত্বেও তাকে বিয়ে করার জন্য সুমনসহ তার বাবা-মা কে অনুরোধ করেন ইউপি সদস্যসহ বাড়ীর লোকজন। কিন্তু সুমন মেয়েটিকে বিয়ে করা যাবে না বলে অপমান করে ঘর থেকে বের দেয় রিকশাচালক কামাল হোসেনকে।

মেয়ের বাবা কামাল হোসেন রায়পুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে সুমনকে তার বাড়ী থেকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোঃ সুমন বলেন, আমি ধর্ষণের সাথে জড়িত না। মেয়েটিকে রুমান নামের এক ছেলে ধর্ষণ করেছে। আমি মেয়েটিকে বিয়ে করবো কেন? মেয়েটিকে মারধর করে আমার নাম বলতে বলায় সে আমার নাম বলছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের মোবাইল নম্বরে বিষয়টি নিয়ে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল জলিল বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরি মেয়েটির জবানবন্ধি অনুযায়ী ধর্ষণের মামলার রেকর্ড করেছি। আজ বুধবার সকালে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য সদর হাসপাতাল ও জবানবন্ধির জন্য আদালতে পাঠানো হবে। সাথে আটক সুমনকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন :